শাহজালাল বিমানবন্দর
কার্গো ভিলেজে সিলগালা ‘স্ট্রংরুম’–এর তালা ভাঙা, অস্ত্র চুরির শঙ্কা
০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৭ পিএম
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সিলগালা করা স্ট্রংরুমের (ভল্ট) তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে কয়েকটি অস্ত্র চুরি গেছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর থানায় এ নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সেখানে অস্ত্র খোয়া যাওয়ার কথা বলা না হলেও পুলিশের একটি সূত্র প্রতিদিনের চিত্র বিডিকে বলেছে, আগ্নেয়াস্ত্রসহ বেশ কিছু জিনিস খোয়া যেতে পারে।
এ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, যদি চুরি হয়ে থাকে, তাহলে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
গত ১৮ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাতে আমদানির কার্গো কমপ্লেক্স (যেখানে আমদানি করা পণ্য রাখা হয়) পুড়ে যায়। সেই আগুনে অগ্নি প্রতিরোধী স্ট্রংরুমের কোনো সামগ্রী কিংবা নথিপত্র পোড়েনি বলে বিমানবন্দর সূত্র জানায়। ওই স্ট্রংরুমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আমদানি করা বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল বলে জানায় পুলিশ সূত্র।
এরপর সিলগালা অবস্থায় থাকা স্ট্রংরুমে ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে তালা ভাঙার তথ্য জানিয়ে বিমানবন্দর থানায় জিডি হয়, যে খবরটি আজ মঙ্গলবার প্রকাশ পায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিদুল ইসলাম প্রতিদিনের চিত্র বিডিকে বলেন, স্ট্রংরুমের তালা ভাঙার বিষয়ে একটি জিডি হয়েছে। কিন্তু অস্ত্র খোয়া যাওয়ার কোনো তথ্য নেই।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মো. জামাল হোসেনের করা জিডিতে বলা হয়, ২৪ অক্টোবর বিকেলে কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার নেয়ামূল, বিমানের জিএম (কার্গো) নজমুল হুদা, এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ফিরোজ রব্বানীসহ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্ট্রংরুমের সব মালামালের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর মালামালগুলো ভল্টে রেখে সবার উপস্থিতিতে তালা লাগিয়ে সিলগালা করা হয়।
২৭ অক্টোবর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সর্বশেষ স্ট্রংরুম সিলগালা অবস্থায় দেখেছিলেন জানিয়ে জিডিতে বলা হয়, কিন্তু পরদিন ২৮ অক্টোবর সকাল ৭টা ৭ মিনিটে ডিউটি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম খান দেখেন, স্ট্রংরুমে আর তালা লাগানো নেই। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং বিমান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ডিউটি অফিসাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভাঙা অবস্থায় ভল্ট দেখতে পান।
এ ঘটনা নিয়ে বিমানবন্দর ও পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে তালা কাটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক দল। পিস্তলসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিস তারা জব্দও করেছে।
আজ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে এ ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। তিনি তখন বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ড তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের জন্য চার থেকে পাঁচটি দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দু–একটি দেশের বিশেষজ্ঞ এসেছেন। আর তদন্তের পর জানা যাবে, চুরি হয়েছে কি হয়নি। যদি চুরি হয়ে থাকে, তাহলে কার মাধ্যমে হয়েছে, কে দায়ী, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’































