প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' পরিকল্পনা
দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ঢাকা মহানগরীর পরিবেশ উন্নয়ন ও নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের জোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশন দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেন। সেই সঙ্গে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সর্বস্তরের নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী নগর ব্যবস্থাপনায় গতি আনার জন্য একাধিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
দিনের বেলায় রাস্তায় বর্জ্য জমে থাকলে শহরের নান্দনিকতা বিনষ্ট হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দিনের পরিচ্ছন্নতার চেয়ে রাতের বেলায় বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক বেশি কার্যকর। এ বিষয়ে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সিটি কর্পোরেশনকে তাগিদ দেন তিনি।
ঢাকার রূপ বাড়াতে এবং একে পরিবেশবান্ধব করতে রাস্তার উভয় পাশে বারোমাসি ফুলের চারা রোপণের নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, নগরকে কেবল পরিচ্ছন্ন রাখলেই চলবে না, একে একটি সুন্দর ও সবুজ ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার, সবুজায়ন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার সুসংহত উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।
পর্যালোচনা সভায় দুই সিটি কর্পোরেশনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়:
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন: ২৯টি খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ কাজ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন: দক্ষিণ অঞ্চলের খালগুলোর সীমানা চিহ্নিত করার কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে।
রাজধানীর মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্টে সম্প্রতি রাতে জোনাকি পোকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা নগরের পরিবেশগত ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গৃহীত উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করে কাজের গতি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কার্যক্রম মনিটর করছেন। তাই গৃহীত প্রকল্পগুলোর বাস্তবভিত্তিক সমাধান, কাজ শুরুর আগের ও পরের তুলনামূলক চিত্র এবং ভবিষ্যতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তুত করে দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।
উক্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় উভয় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















