নবম পে-স্কেল অনুমোদন
সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ এএম
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি ও সার্বিক অর্থনৈতিক চাপের মুখেও সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বিগত ১২ বছর পর এই নতুন কাঠামো অনুমোদন পাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, পেনশন বৃদ্ধি, ভাতার সমন্বয় ও ‘এক পদ এক পেনশন’ (ওআরওপি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের বার্ষিক বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সামাল দিতে ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনা করে এই বৃহৎ আর্থিক দায়ভার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার তেজগাঁওয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বহু প্রতীক্ষিত এ জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায় তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহেই আইনগত ভেটিং ও এসআরও প্রক্রিয়াকরণ শেষে কয়েকটি আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে।
অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই সর্বস্তরে বেতন সংশোধন করা হয়েছে। তবে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সুরক্ষা দিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ওপর। ফলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের বৈষম্যমূলক অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমে দাঁড়াচ্ছে ১:১.৭৮-এ। নতুন স্কেলে সর্বোচ্চ (১ম) গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১০০ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হচ্ছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন (২০তম) গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
গ্রেডভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়— ২য় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার, ৩য় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার, ৪র্থ গ্রেডে ১ লাখ, ৫ম গ্রেডে ৮৬ হাজার, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার, ৭ম গ্রেডে ৫৮ হাজার, ৮ম গ্রেডে ৪৬ হাজার এবং ৯মে ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০ম ও ১১তম গ্রেডে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধিতে বেতন যথাক্রমে ৩২ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এরপর ১২তম থেকে ১৯তম গ্রেড পর্যন্ত যথাক্রমে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা (১১৫%), ২৪ হাজার টাকা (১১৮%), ২৪ হাজার টাকা (১৩০%), ২৩ হাজার ৫০০ টাকা (১৩৫%), ২১ হাজার ৯০০ টাকা (১৩৫%), ২১ হাজার ৪০০ টাকা (১৩৮%), ২১ হাজার টাকা (১৩৯%) এবং ২০ হাজার ৫০০ টাকা (১৪১%) হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুরো বর্ধিত মূল বেতন একবারে না দিয়ে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে আগামী ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন সমন্বয়ের এই তিন ধাপ সম্পন্ন হবে। তবে উৎসব, চিকিৎসা ও বাড়িভাড়াসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একসঙ্গে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
চাকরিজীবীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সুরক্ষায় নিট পেনশনে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্ল্যাবভিত্তিক এই পুনর্বিন্যাসে কম পেনশনভোগীরা বেশি সুবিধা পাবেন। নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম পাওয়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ। এ ছাড়া ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার ওপরের স্কেলে নিট পেনশন ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।


















