কুলাউড়ায় ছাত্রী ধর্ষণের মুলহোতাকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন
২৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০৭ পিএম
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সপ্তম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার মুলহোতাকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভাটেরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এছাড়াও আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতরে ঘটনার প্রধান আসামী আনিছ মিয়া (৩২) কে গ্রেফতার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
সোমবার(২৮ অক্টোবর) সকাল ১১ টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের ভাটেরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭ শত শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় হাজারো জনতা।
ভাটেরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক আব্দুস সামাদের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ভিকটিমের ভাই, প্রতিষ্ঠানের গভর্ণিং বডি’র সদস্য উমেদ আলী, সহকারী অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক জামাল আহমদ ও হামিদ খান, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা তাবাসসুম রাফা, ফাহমিদা ইসলাম শোভা, সফিকুল হাসান প্রমুখ।
মানববন্ধনে ভিকটিমের ভাই বলেন, আমার বোন গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) স্কুলে গিয়েছিলো ছাত্রী হয়ে কিন্তু ফিরেছে ধর্ষিতা হয়ে। বাড়ি ফেরার পথে নরপশু আনিছ ও সানু আমার বোনকে হত্যার উদ্দেশ্যে জোড়পূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। আমার বোনের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো চাকুর আঘাত রয়েছে। ঘটনার পর আমার বোনকে নিয়ে বিকাল ৫ টার দিকে কুলাউড়া থানার দুই এসআই ও এক কনস্টেবল আমার বোনকে একা একটি রুমে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে রাত ২ টা পর্যন্ত আটকে রেখে জোড়জবস্তি করে মনগড়া ঘটনার বিবরনী আদায় করে। কিন্তু এর আগে আমার বোন প্রথম যে ঘটনার বিবরনী দেয় তা তারা ছিঁড়ে ফেলে।
ভিকটিমের ভাই আরো বলেন, আমার বোনকে ওই তিন পুলিশ ভয় দেখিয়ে বলে- ‘তোমার জেল হবে, তোমার ফাঁসি হবে, তোমার পরিবারের ক্ষতি হবে, তোমার পরিবার ধ্বংস হবে। তাই আমরা যেভাবে বলছি এইভাবে ঘটনা বলো।’
ভিকটিমের ভাই বলেন, আমার বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কুলাউড়া থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা রুজু হয়েছে। তারা (পুলিশ) টাকা খেয়ে মামলার মুল ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে তিনি বলেন, ওই পুলিশদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই আসল তথ্য সবাই পেয়ে যাবেন। আমি আমার বোন ধর্ষণের বিচার চাই, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই।’
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সেদিন কিভাবে একজন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছিলো তা ভিকটিম নিজেই বলেছে। আনিছ ধর্ষণ করার পর সানু যখন ধর্ষণ করেছিলো ঠিক তখন মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে বখাটে আনিছ ও সানু পালিয়ে যায়। মানববন্ধন শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ধর্ষণকারীদের ফাঁসি দাবি করে একটি বিক্ষোভ মিছিল ভাটেরা বাজার প্রদক্ষিণ করে।
এবিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি পক্ষ কাজ করছে। মামলা এজহার গ্রহণের সময় ভিকটিমের মা, বাবা, ভাই উপস্থিত ছিলো। মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণিতে পড়য়া এক ছাত্রীকে জোড়পূর্বক একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে ভাটেরা ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ গ্রামের সোনা মিয়া মহরির ছেলে আনিছ মিয়া (৩২) ও ভবানীপুর গ্রামের সোনা মিয়া ওরফে মেলেটারির ছেলে সানু মিয়া (৩৫) নামক দুই লম্পট। এসময় ভিকটিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওই দুই বখাটে পালিয়ে যায়। পুলিশ সানু মিয়াকে আটক করলেও ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত আনিছ মিয়াকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
















