কুলাউড়ায় পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৯ এএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রমজান মাসে তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও মামলায় হয়রানী ও পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগীদের পক্ষে অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কেওলাকান্দি জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদ কমিটির সভায় রমজান মাসে সূরা তারাবির সিদ্ধান্ত নিলে এলাকার মদরিছ আলী, হান্নান মিয়া, সজিব মিয়া, মকবুল আলী গংরা অগ্রাজ্য করেন। তখন ইমামকে বাদ দিয়ে মদরিছ আলী তাঁর দুই ভাতিজা ইসমাইল ও ইসরাইলকে দিয়ে তিন দিন খতম তারাবি পড়ান। তারাবীর অজুহাত দেখিয়ে ১৭ এপ্রিল রাত সাড়ে আটটার দিকে পরিকল্পিতভাবে তারাবীর নামাজ শেষে মুসল্লীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মদরিছ আলী গংরা । এ সময় মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ চান্দু মিয়া আত্মরক্ষার্থে বাড়িতে আশ্রয় নেন। বাড়িতে গিয়ে হামলাকারীরা মুসল্লীসহ ঘরের লোকজনের ওপর হামলা ও মারধর করেন। হামলায় আব্দুল গফুর, ইসলাম উদ্দিন, চান্দু মিয়ার ছেলের বউ জেসমিন বেগম, চান্দু মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম, সুরুজ আলী, মাসুদ আলী, রেদুয়ান ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, আবুল কাশেমকে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এসময় জেসমিন বেগম ও আম্বিয়া বেগমকে মাঠিতে ফেলে কাপড় টানাহেচড়া করে শ্লীলতাহানী করে। আহতদের কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল গফুর, ইসলাম উদ্দিন, জেসমিন বেগম, আম্বিয়া বেগম, সুরুজ আলী, ও মাসুদ আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
হামলার ঘটনায় মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ চান্দু মিয়া বাদী হয়ে মদরিছ আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করে দশজনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় ১৯ এপ্রিল একটি মামলা (নং-১৪) দায়ের করেন। কিন্তু আমাদের মামলার তিনদিন পরে প্রতিপক্ষ মদরিছ আলী বোন জামাই ছবেদ আলী পালটা মামলা দায়ের করে। এতে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ চান্দু মিয়াসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়া জসিম উদ্দিন ঘটনার দিন সিলেটে থাকলেও তাকে মামলায় আসামী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় ও উপজেলার জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক এবং মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে বিবাদীরা পাত্তা দেয়নি। মামলার প্রধান অভিযুক্ত মদরিছ আলীকে পুলিশ আটক না করায় সে ঘটনার এক মাস পর দুবাইতে পালিয়ে যায়। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভয়ে বাড়িছাড়া হয়ে থাকতে হয়। আমরা মামলা প্রথম দায়ের করলেও প্রতিপক্ষের মামলার প্রতিবেদন আদালতে আগে জমা দেয় পুলিশ। আমাদের মামলার প্রতিবেদনে আহত দুইজনের মেডিকেল রিপোর্ট দেখিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ পরিদর্শক সাদির উদ্দিন। অথচ তাদের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়,প্রতিপক্ষরা দা, রামদা, ছুরি দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেনি তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আর আমরা নাকি প্রতিপক্ষের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিপক্ষের সাথে সমঝোতা করে পক্ষপাতিত্ব ও স্বেচ্ছাচারিতার করে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম দৈনিক প্রতিদিনের চিত্রকে বলেন, চার্জশিট আগে পিছে সেটা মুখ্য নয়, তাদের মামলায় যারা আসামী ছিলো তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামী পলাতক ছিলো আমরা তার বিরুদ্ধে চার্জশিটঁ দিয়েছি আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
















