মাল্টা চাষে সফলতায় রাজনগরের আল-আমিন
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩২ পিএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।
বাগানে সারি সারি মাল্টার গাছ। প্রতিটি গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ডালে ঝুলে রয়েছে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আধপাকা মাল্টা। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালগুলো। মৌলভীবাজারের রাজনগরে আল আমিনের মাল্টা বাগানে এমন চিত্রই চোখে পড়ে।
মাল্টা চাষ করে আল আমিন এখন সফল ব্যবসায়ী। চার বছর আগে জেলার রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউপি নন্দিউড়া গ্রামের আল আমিন সখের বসে, কৃষিবিদ শেখ আজিজুর রহমানের পরামর্শে দুই বিঘা জমিতে মাটি উচুঁ করে মাল্টা চাষ শুরু করেন।
কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে ৪ বছর আগে রাজস্ব প্রকপ্লের আওতায় প্রর্দশনীর দিয়ে আল আমিনকে মাল্টা চাষে উৎসাহিত করা হয়। এখন সে আত্মনির্ভরশীল। নিজ উদ্যোগেই চাষ করে যাচ্ছে।
২০২০ সালে দেড়টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে আল আমিনের। বিক্রি করেন ১ লাখ টাকার। প্রতিবছর মাল্টার উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়ায় আল আমিন অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভের আশায় আছেন। এ বছর ৩ টন মাল্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ঠিকমত বাজারজাত করতে পারলে ৩ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন। তাকে অনুসরণ করে এলাকায় বিছিন্নভাবে অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
আল আমিন বলেন, বিগত কয়েক বছর আগে বিভিন্ন জাতের ফলে ফরমালিন ব্যবহারের হিড়িক পরে। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক। মানুষ নিরাপদ ফল খাওয়ার কথা ভুলে গিয়েছিল। ভেজাল মুক্ত ফল উপহার দেওয়ার কথা চিন্তা করেই কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে মাল্টার বাগান করেছি। অল্প পরিশ্রমে কম খরচে মাল্টা চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। তার বাগানে বারি-১ থাইল্যান্ড জাতের ২০০টি মাল্টার গাছ রয়েছে। চারা রোপণের দুই বছর পর ফলন শুরু করে। তিন বছর পর একটি গাছে পুর্ণাঙ্গরূপে ফল ধরা শুরু করে। প্রতিটি গাছে ৩০০ থেকে ৪০০টি ফল আসে। তার বাগান দেখে অনেকেই মাল্টা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ইফফাত আরা ইসলাম বলেন, মাল্টা চাষ করে আল আমিন সফল হয়েছেন। কৃষি বিভাগ সবসময় তাকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। তার বাগানে গিয়ে দেখেছি মাল্টা গুলো পাকা শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ ভাবে পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত বাজারজাত না করতে বলেছি।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারি বলেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় মৌলভীবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। চাষীদের উদ্বুদ্ধ করায় আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এ অঞ্চলের মাটিতে মাল্টা চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনগর, জুড়ী, বড়লেখা, শ্রীমঙ্গল,কুলাউড়া উপজেলার চাষীদের আমরা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি যেন তাঁরাও আর আমিনের মত করে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাল্টা চাষে উৎসাহ যোগাতে পারে।
















