শশুর বাড়ী এসে লাশ হয়ে ফিরলো
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৬ এএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।
সন্তানদের দেখতে রোববার দিবাগত রাতে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে গিয়েছিলেন ফরজান খাঁন (৬০), কিন্তু সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্বশুরবাড়ির পাশের সব্জির ক্ষেতে তার লাশ পাওয়া যায়।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের পতনঊষারে এই ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত ফরজান খাঁন কুলাউড়া থানার টিলাগাঁও ইউপি বিজলি গ্রামের মৃত রশিদ খানের ছেলে।
পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে পতনঊষারের টিলাগড় গ্রামের ছমসুন বেগমের সঙ্গে ফরজান খাঁনের বিয়ে হয়। স্বামী ফরজান খাঁন বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে এ নিয়ে সংসারে কলহের সৃষ্টি হয়। এর জেরে বিয়ের ৫ বছরের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ হয়। তখন থেকে ছমসুন বেগম তাদের সংসারের তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি পতনঊষারে টিলাগড় গ্রামে চলে যান।
এদিকে বিচ্ছেদের পর ফরজান দ্বিতীয় বিয়ে করেন কমলগঞ্জের আদমপুর ইউপি ছনগাঁও গ্রামে। সন্তানদের দেখতে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে যেতেন ফরজান। রোববার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তিনি (ফরজান খাঁন) সন্তানদের দেখতে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে যান। এরপর সোমবার সকালে শ্বশুরবাড়ির পাশের সব্জির ক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রোববার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ফরজান শ্বশুরবাড়ি আসার পর তাকে হত্যা করা হয়। পরে বাড়ির পেছনের সব্জি ক্ষেতে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের গায়ে সাদা গেঞ্জি ও আকাশি রঙের ফুল শার্ট ও লুঙ্গি পরা ছিল।
নিহতের শরীরের কোথাও আঘাতের আলামত পাওয়া না গেলেও মাথায় এবং গেঞ্জিতে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পুলিশ পরিদর্শক) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সকালে সব্জি ক্ষেতে বৃদ্ধের লাশ দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের পাশে ধান কাটার কাঁচি (কাস্তে), কাপড়ের বেগ, মোবাইল ফোন, নগদ ২০ টাকা ও বিড়ি পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















