উন্দালের অতিথি কুলাউড়ার অন্নহীনরা
২২ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৫৪ পিএম
উন্দালের পরিবেশনায় অন্নভোজন করছে ছিন্নমূল নারী ও শিশুরা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার উত্তর মাগুরা এলাকায় প্রতিদিন শিশু-বৃদ্ধসহ কর্মক্ষম শতাধিক মানুষ ক্ষুধা নিবারণের প্রয়াসে ছুটে আসেন অসহায়দের খাবার ঘর ‘উন্দাল’র ঠিকানায় ।
আয়োজকরাও আন্তরিকতায় প্রস্তুতকৃত খাবারের থালাটি তুলে দেন তাদের হাতে। ক্ষুধা নিবারণ শেষে অনেকটা নিজের ঘরের আপন মানুষের মতো তৃপ্তির ঢেকুর তোলে চলে যান সবাই নিশ্চয়তা আর ভরসা নিয়ে।
অমর্ত্য ফাউন্ডেশনের কুলাউড়ার “উন্দাল” চলছে নিরাপদ স্বাস্থ্য রক্ষায় সামাজিক সংগঠনের সিনিয়র সদস্য রেজাউল আম্বিয়া রাজুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে। তার পরিবারের সদস্যরা রান্না-বান্না থেকে শুরু করে পরিবেশনসহ যাবতীয় কাজ করছেন বিরামহীনভাবে। ছিন্নম‚ল হতদরিদ্র ক্ষুধার্ত মানুষেরা কুলাউড়ার উন্দালে প্রতিদিন দুপুরে আপ্যায়িত হচ্ছেন অতিথি হয়ে।
নিরাপদ স্বাস্থ্য রক্ষায় সামাজিক সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাঈদুর রহমান চৌধুরী বলেন, কুলাউড়ায় উন্দালের যাত্রা শুরু হয়েছিলো গত ৮ জুলাই থেকে। প্রথমে আমার রেলওয়ে কলোনির বাসায় এই খাবার ঘরটি প্রায় ২ মাস চালাই। পরে উন্দাল স্থানান্তর করে মাগুরায় রাজু ভাইয়ের বাসায় নেয়া হয়। এখন আমাদের উন্দালের অতিথিদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী ও দেশ-বিদেশের সুহৃদ-স্বজন মানুষের সহযোগিতায় এই উন্দাল চলছে। গরিবের এই খাবার ঘরে প্রিয়জনের জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকীসহ রোগমুক্তি কামনায় অনেকে দোয়া-মাহফিলেরও ব্যবস্থা করেন।
উন্দালের তত্ত্বাবধায়ক রেজাউল আম্বিয়া রাজু বলেন, আমাদের উন্দালের বিশেষ দিনগুলোতে মুরগির আখনি, ডিমসহ একটু ব্যতিক্রমধর্মী খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রতিদিনের ধারাবাহিক দুপুরের খাবারে মুরগির মাংস, ডিম, ডাল-সবজি, ভুনা খিচুড়ি ইত্যাদিতো আছেই। অতিথি পেট ভরে খান আবার অনেকে রাতের জন্যও খাবার নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, আমি এবং আমার পরিবার খুবই কৃতজ্ঞ তাদের কাছে, যারা আমাদের এই মহৎ কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন।
কুলাউড়ার দুপুরের একবেলা খাবার ঘর ‘উন্দাল’ যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে নেয়া যায় সেজন্য পাশে থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন উন্দালের আয়োজকরা।
ও/এফ
















