দক্ষিণ হমানকর্দ্দি চরের আবাদি জমির মাটি চুরি
০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:০৮ পিএম
চাঁদপুর সদর উপজেলা ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নের দক্ষিণ হমানকর্দ্দি চরের আবাদি জমির মাটি চুরি হওয়ায় চলতি রবি শর্ষ্য মৌসুমে কৃষকদের আবাদি জমিতে আবাদ করতে চরম ভোগান্তীর কবলে পড়তে হচ্ছে। এ বছর বর্ষ মৌসুমে এক শ্রেণীর অসাধু নৌকার মালিকরা নৌকা দিয়ে বর্ষা মৌসুমে দিনে-রাতে বিভিন্ন সময়ে দক্ষিন হামানকর্দ্দি চর (বেড়ী বাঁধের বিলের) মাটি চুরি করে নিয়ে বিভিন্ন ব্রিকফিল্ডে বিক্রি করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরজমিনে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, দক্ষিন হামানকদ্দি বেড়ি বাঁধের বিলটি বর্ষ মৌসুমে জনশূন্য থাকে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর নৌকার মালিকরা বর্ষ মৌসুমের মাটি কাটার শ্রমিক দিয়ে বিভিন্ন জমি থেকে মাটি চুরি করে কেটে নিয়ে আসে। আর সে মাটি আশ পাশের বিভিন্ন ব্রিকফিল্ডে অধিক মূল্যে বিক্রি করছে চোরেরা। বর্ষা শেষে উক্ত জমিতে আবাদ করতে গিয়ে বিষয়টি প্রতি বছর কৃষকদের চোখে ধরা পড়ে। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকে। মাটি চুরির কারণে গর্ত ভরাট করতে কৃষকদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। এতে তারা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অনেক জমি রয়েছে গর্ত ভরাট করতে না পারায় সারা বছর অনাবাদি থেকে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মৃত মাস্টার আবদুল মান্নান খানের ছেলে মফিজুর রহমান মুকুুল, মৃত খলিলুর রহমান পাটওয়ারীর ছেলে আলী আকবর পাটওয়ারী, আবুল হোসেনের ছেলে সাওয়ার হোসেন গাজী, আবিদ খানের ছেলে গফুর খান জানান, বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ হামানকর্দ্দির চরে কিছু অসাধু ব্যাক্তি নৌকা/ টলারে করে আমাদের অনুমতি ছাড়াই আমাদের জমি থেকে মটি চুরি করে নিয়ে যায়। যা বর্ষা শেষে জমিতে আবাদ করতে গেলে বিষয়টি সকলের চোখে ধরা পড়ে। এভাবে আমাদের জমি থেকে মাটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ফলে আমাদের জমিতে ফলস উৎপাদন করতে মারাত্মক সমস্যা হয়।
সরকার যেখানে কৃষি উৎপাদান বৃদ্ধির জন্য, কৃষি জমি রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্দক্ষেপ গ্রহণ করছে সেখানে রাতের আঁধারে, বেলায়-অবেলায় কিছু অসাধূ ব্যাক্তি যোগসাজশ করে এভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে এর কি আইনগত বৈধতা রয়েছে? প্রশ্ন ক্ষতিগ্রস্থদের। এভাবে চুরি করে জমি থেকে গর্ত করে মাটি নিলে ভষিৎতে আমাদের জমিগুলো অনাবাদিই থেকে যাবে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, দক্ষিণ হমানকর্দ্দির লফিত মৃধার ছেলে খলিল মৃধা, কলমতর খানের ছেলে হেলাল খান, জামাল গাজীর ছেলে কাইউম গাজী, নোয়াব আলী গাজীর ছেলে ছাত্তার গাজীসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন এলাকায় নৌকা দিয়ে মাটির এই ব্যবসা করে থাকে। তাদের যে কেউ এ ঘাটনা ঘটাতে পারে বলে জানান তারা।
সিবিএফ ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার জসিম জানান, নৌকার মালিকদের কাছে থেকে সকল ব্রিকফিল্ডের মালিক মাটি ক্রয় করে। মাটি ক্রয় করার বিষয়ে ব্রিকফিল্ড মালিকদের কোন প্রকার সম্পৃততা নেই। জমির মালিকরায় নৌকার মালিকদের কাছে মাটি বিক্রি করে।






























