পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ছয় দফার দাবি
০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:২৩ পিএম
ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।
খাগড়াছড়িতে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৬ (ছয়) দফা দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা গ্রুপ)। শনিবার (২রা ডিসেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নস্থ কমলছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সংগঠনের আয়োজিত গণসমাবেশে বক্তারা এসব দাবি জানান।
দাবিগুলোর মধ্যে হচ্ছে- ১) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়নপূর্বক দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা; ২) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি কার্যকর রাখা; ৩) চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে সাধারণ প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার কার্যাবলী ও ক্ষমতা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হস্তান্তর করা; ৪) চুক্তি মোতাবেক স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়নপূর্বক তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা; ৫) চুক্তি মোতাবেক প্রত্যাগত জনসংহতি সমিতির সদস্যদের শীঘ্রই যথাযথ পুনর্বাসন করা এবং ৬) ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরনার্থী ও আভ্যন্তরীণ উপজাতীয় উদ্বাস্তুদের যথাযথ পুর্নবাসন করা।
সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৬ বছর পূর্তি উদযাপন কমিটির আহবায়ক আরাধ্য পাল খীসার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস- এমএন লারমা সমর্থিত) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও মহালছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অংশুমান চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা, উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি রবি শংকর তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
গণসমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৬ বছর পূর্তি হয়েছে দীর্ঘ ২৬ বছরেও পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিগত আড়াই দশকের বেশী সময় ধরে সময় পার হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সমাধান হওয়া তো দূরের কথা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা আরো জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে।
বক্তারা আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত ও ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৯টি ধারার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে অসত্য ও মনগড়া তথ্য দিয়ে আসছে। কিন্তু বাস্তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৮টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট ২৯টি ধারা সম্পূর্ণ ভাবে অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে এবং সরকার এসব ধারা লঙ্ঘন করেন চলেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হচ্ছে জুম্ম জনগণের শাসনতান্ত্রিক রক্ষাকবচ। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট কোন অঙ্গীকার না থাকলে পার্বত্যবাসী বিকল্প সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বলেও হুশিয়ারি দেন বক্তারা। অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করার দাবি জানান তারা।































