এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যয়ন শিক্ষকের চায়ের আড্ডায়, জব্দ ৪০০ উত্তরপত্র

শহীদ আহমদ খান

০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম


এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যয়ন শিক্ষকের চায়ের আড্ডায়, জব্দ ৪০০ উত্তরপত্র

 

চায়ের আড্ডায় বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় ব্যস্ত সময় পার করার পাশাপাশি অত্যন্ত স্পর্শকাতর উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন এক শিক্ষক। শুধু তা-ই নয়, তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত লাগাচ্ছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাতেনাতে ওই শিক্ষককে ধরে ফেলে তাঁর কাছ থেকে ৪০০টি খাতা জব্দ করেছেন। খাতা দেখার মতো দায়িত্বশীল কাজ চায়ের দোকানে বসে প্রকাশ্যে করার এমন অসংবেদনশীল ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থী মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক-সংলগ্ন 'ফজলুল হকের চায়ের দোকানে' এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন (সোহান)। তিনি সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক এবং সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন অনুমোদিত পরীক্ষক। ইকবাল শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফজলুল হকের দোকানে বসে বস্তাভর্তি খাতা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ছলে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে শাবিপ্রবি শাখার তৎকালীন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহসভাপতি আইরিন লিনজাসহ অন্য বন্ধুরা খাতা মূল্যায়নে অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা একইভাবে ওই দোকানে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত চায়ের দোকানদার ফজলুল হক জানান, রাতে দোকান গোছানোর সময় অভিযুক্ত পরীক্ষক ও তাঁর সঙ্গীরা খাতা দেখছিলেন। ঠিক তখনই শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে তাঁদের আটকান ও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে খাতা দেখার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবালের বান্ধবী আইরিন লিনজা দাবি করেন, তিনি কেবল আড্ডায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন এবং খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব সম্পূর্ণ ইকবালেরই ছিল।

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন জানান, তথ্য পাওয়ার পরপরই বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চায়ের দোকান থেকে হাতেনাতে ওই শিক্ষককে ধরে এবং ৪০০টি খাতা জব্দ করে। পরীক্ষক ইকবাল হোসেনকে শিক্ষা বোর্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে শিক্ষককে বোর্ডের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Ads