জাতীয় মৎস্য পদকে স্বর্ণপদক পেলেন দীঘিনালার মৎস্যচাষি শাহজাহান
১৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ এএম
মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬’-এ স্বর্ণপদক পেয়েছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মৎস্যচাষি মো. শাহজাহান। রোববার (১৬ আগস্ট) তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ পদক গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ।
নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ জানান, ১৬ আগস্ট মো. শাহজাহান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় মৎস্য পদক গ্রহণ করেছেন। এ অর্জনে মৎস্য অধিদপ্তর, খাগড়াছড়ির পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দনও জানানো হয়।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মো. শাহজাহান দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা। ২০২৫ সালে তিনি ছয়টি পুকুরে মোট ৩ দশমিক ২ হেক্টর জলায়তনে ১২ মেট্রিক টন কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন করেন। এছাড়া ১ দশমিক ২১ হেক্টর জলাশয়ে তেলাপিয়া ও কার্পের মিশ্রচাষ করে ২৮ দশমিক ৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করেন।
১৯৯৮ সাল থেকে তিনি মাছের পোনা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর উৎপাদিত পোনা দীঘিনালা উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার মৎস্যচাষিদের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে।
তাঁর মৎস্যচাষের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক মানুষ মাছ চাষে আগ্রহী হয়েছেন এবং তাঁর পরামর্শে নতুন মৎস্য খামার গড়ে উঠেছে। তাঁর খামারে স্থায়ীভাবে ছয়জন এবং অস্থায়ীভাবে আরও ১২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
নিরাপদ মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ‘জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬’-এর স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে। পদকের পাশাপাশি তিনি ৫০ হাজার টাকার ব্যাংক চেকও পেয়েছেন।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিল পারভেজ বলেন, “শাহজাহান মিয়ার এই অর্জনে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি এলাকায় ফিরে এলে তার এই অর্জনকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “তার এই সাফল্য দীঘিনালার অন্যান্য মৎস্যচাষি ও নতুন উদ্যোক্তাদের মাছচাষে আরও উৎসাহিত করবে। আমরা আশা করি, তার দেখানো পথে আরও মানুষ মাছচাষে এগিয়ে আসবেন এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
























