বঙ্গভবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
মির্জা ফখরুল আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিবেন
২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটাভুটির এক ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তিনি শপথগ্রহণ করবেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং শপথের পরপরই বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হিসেবে তিনি কার্যভার গ্রহণ করবেন।
জাতীয় সংসদে আয়োজিত এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা ভোটগ্রহণে ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় অর্জন করেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে নির্বাচন কর্মকর্তা বিজয়ীর নাম ঘোষণা করতেই সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।
দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের ভোট পর্ব শুরু হয়। শুরুতে নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটাভুটির নির্দেশিকা ও নিয়মকানুন তুলে ধরেন। এরপর সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত ক্রমানুসারে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, সংসদ নেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতিতে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হয়। পুরো সময় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করেন। ভোটাভুটি চলাকালীন সংসদ নেতা ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আন্তরিক উপস্থিতি এবং আসন ছেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় সংসদীয় গণতন্ত্রের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের নজর ছিল সংসদ ভবনের দিকে। নির্বাচনে ভোটার তালিকায় থাকা ৩৪৯ জন এমপির মধ্যে ৬ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে অসুস্থতা, বিদেশ অবস্থান এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত কারণে কয়েকজন এমপি ভোটদানে বিরত থাকেন। ফলাফলের পরপরই পরাজিত প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ এক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতির প্রতি শুভকামনা জানান এবং রাষ্ট্র ও সংবিধানের রক্ষক হিসেবে তাঁর সাফল্য কামনা করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে যায়। জেলার রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ ও সততার স্বীকৃতি হিসেবে এই অর্জনকে দেখছেন স্থানীয় জনগণ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

























