দিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বাধা, ব্যাখ্যা দিল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ জুন ২০২৬, ০৮:১২ এএম


দিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বাধা, ব্যাখ্যা দিল ভারত

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঘটনায় ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, উপদেষ্টা জাহেদের ভারতে আসার উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি নিজেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল এই ব্যাখ্যা দেন।

মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান গত ১৪ জুন ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ও সার্ক ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। তিনি ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠকে যোগ দিতে আসেন। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অভিবাসন দপ্তরের আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আইওআরএ বৈঠকের ব্যাপারে তাঁর ভারতে আসার উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নিজেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’

এদিকে দিল্লির বিমানবন্দরে বাংলাদেশের একজন উপদেষ্টাকে এভাবে আটকে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পরদিনই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে দিল্লির বিমানবন্দরের ওই আচরণকে স্পষ্ট ‘হয়রানিমূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। গত ১৬ জুন সচিবালয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘আমি ওখানে (ভারতে) একজন ব্যক্তি হিসেবে যাইনি। আমি এই সরকার ও রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে সেখানে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো আমাদের ইনস্ট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) একটা প্রতিবাদ হওয়া দরকার। সেই কারণে আসলে আমি ব্যাক করার (ফেরত আসা) সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রবেশের জন্য অনেক চেষ্টা করলেও রাষ্ট্রের সম্মানের কথা বিবেচনা করে তিনি আর প্রবেশ করেননি।

একই প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উত্তেজনার মুখে একটি মন্দির চত্বরে রামের বিগ্রহ নির্মাণ স্থগিতের বিষয়েও কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ থেকে আসা কিছু খবর দেখেছি। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশের সরকার সেখানকার চরমপন্থি লোকজনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি নিশ্চিত করবে।’

 

Ads