ট্রাম্পের-ইরান চুক্তির আসল পরীক্ষা হবে আগামী সপ্তাহে

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম


ট্রাম্পের-ইরান চুক্তির আসল পরীক্ষা হবে আগামী সপ্তাহে

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের মিক্সড মার্শাল আর্টস লড়াইয়ের জমকালো আবহেই এল এক বড় ঘোষণা। ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক রাজনীতির ধারাবাহিকতায় হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হলো— ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে সিএনএনের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘ ও জটিল অচলাবস্থা মার্শাল আর্টের চূড়ান্ত আঘাতের মতো এত সহজ বা স্পষ্ট নয়। ফলে এই চুক্তিকে এখনই ‘একচ্ছত্র বিজয়’ বলার সুযোগ নেই।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আপাতত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। এই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে তাদের অবরোধ তুলে নেবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার করবে। সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগামী শুক্রবার থেকে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে নিশ্চিত করেছেন, এই চুক্তিতে একটি বড় নিশ্চয়তা রয়েছে— ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না।

এই চুক্তি বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের অবসান ঘটাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই পিষ্ট। যে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে ১৩ জন মার্কিন সেনার প্রাণ, ঘটিয়েছে অসংখ্য ইরানি নাগরিকের মৃত্যু এবং লেবাননকে আবারও অন্যের যুদ্ধে বলি বানিয়েছে— তা বন্ধের যেকোনো উদ্যোগই ইতিবাচক। কিন্তু চুক্তির বিস্তারিত তথ্যের অভাব ট্রাম্পকে তিনটি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে:

  • আগের অবস্থায় প্রত্যাবর্তন? পারমাণবিক কার্যক্রমের মূল সংকটের সমাধান না করে শুধু হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া কি পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়?
  • ওবামা আমলের চুক্তির চেয়ে কি এটি উন্নত? বারাক ওবামার আমলের যে পারমাণবিক চুক্তি ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন, তিনি কি তার চেয়ে উন্নত কোনো চুক্তি করতে পেরেছেন?
  • যুদ্ধের যৌক্তিকতা কোথায়? অধিকাংশ মার্কিনি যে যুদ্ধ চায়নি, সেই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কি আদৌ কোনো যৌক্তিক ফল এনে দিতে পেরেছে?

 

দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রশ্ন হলো— ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের এই নিয়ন্ত্রণকে ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করবে। এ ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পরও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর সিএনএনকে বলেন,

"এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি। এর মাধ্যমে আমরা আবারও একটি শীতল যুদ্ধের যুগে প্রবেশ করছি। তবে মূল সংকটের কোনো সমাধান হয়নি।"

পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কারগুলো চলাচল শুরু করলে জ্বালানির বাজারে স্বস্তি ফিরবে। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কমলে তা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হবে, যারা বর্তমানে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

তবে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী নীতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থাকেই রাজনৈতিক অস্ত্র বানাচ্ছেন। হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ বলেন, "যুদ্ধ বন্ধ হওয়া ইতিবাচক। কিন্তু এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই অর্জন করতে পারেনি। আমরা ঠিক আগের জায়গাতেই ফিরে এসেছি।"

ইতিহাস ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নির্ভর করছে আগামী সপ্তাহের আলোচনার ওপর। ইরান সত্যিই তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে কি না— সেটাই হবে ট্রাম্পের এই চুক্তির আসল পরীক্ষা। আপাতত এই চুক্তি ট্রাম্পের যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি সাময়িক পথ তৈরি করলেও, চূড়ান্ত ফায়সালা এখনো অনেক দূরে।
 

Ads