ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৬ জুন ২০২৬, ১২:০১ পিএম


চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক


ফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই শীর্ষ নেতা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা পরিচালনা করেন।

চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন আগেই জানিয়েছিলেন যে, সফরের শেষ দিনে এই দুই নেতার সাক্ষাৎ হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করতে এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইতিবাচক ফলাফল অর্জনে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল।

মুখপাত্র মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কসহ সবক্ষেত্রেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করছে ঢাকা।

বৈঠকের আগে, সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দেশটির বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত ও বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রী চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে চার দিনের এই সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন, যা তাঁর দ্বিতীয় বিদেশ সফর।

এর আগে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু করেন। এরপর তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘সামার দাভোস ২০২৬’-এ অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান এবং সেখানে দুই দিনের কর্মসূচি শেষ করে বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান।

সফরের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে এক ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

একই দিনে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি দলীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর পাশাপাশি চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

চীন সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের বিনিয়োগ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এই সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

দলীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গেও একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

বেইজিংয়ে অবস্থানকালে চীনের বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহী, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। পূর্ববর্তী সফরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রধানমন্ত্রী মাত্র ২৫ সদস্যের একটি সাশ্রয়ী ও ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করছেন, যার মধ্যে ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন।

চার দিনের এই ঐতিহাসিক ও সফল সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় বেইজিং বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

Ads