ভারত-ফ্রান্সের মধ্যে রাফাল চুক্তি স্বাক্ষরিত
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১২:৫৯ এএম
।। আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। স্বাক্ষরিত হল বহুপ্রতীক্ষিত রাফাল চুক্তি। ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে অসেক দিনের সমস্যা সমাধান করে ফেলল ভারত।
শুক্রবার ২৩ সেপ্ট. নয়াদিল্লিতে দুই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চুক্তিপত্রে সই করেছেন। শুধু যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তির পাশাপাশি মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্রও পাচ্ছে ভারত। ফলে এই চুক্তি ভারতীয় বিমান বাহিনীকে প্রতিপক্ষের বিমান বাহিনীর থেকে বহুগুণ এগিয়ে নিল, বলছে ভারত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁ রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লিতে এসেছিলেন। এ সময় এই রাফাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল। যুদ্ধ বিমানের দাম নিয়ে দু’পক্ষ সহমত হতে না পারায় সে সময় চুক্তি সম্ভব হয়নি। দুই দেশের এই সমঝোতা চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্ব ছিল বলে দফায় দফাই আলোচনা হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের মাঝামাঝিই ভারত এবং ফ্রান্স রাফাল চুক্তির বিষয়ে একমত হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে সেদিনই নির্ধারণ হয়েছিল। সেই ঘোষণা মোতাবেক শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পর্রীকর এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট জে ওয়াই লেদ্রিয়ান এই চুক্তির চুক্তি সই করলেন।
ভারত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছরের মাথায় প্রথম দফার হস্তান্তর হবে। অর্থাৎ, মোট যে ৩৬টি যুদ্ধবিমান ফ্রান্সের কাছ থেকে ভারত কিনছে, তার মধ্যে প্রথম দফায় যে ক’টি পাওয়ার কথা, সেগুলি চুক্তি স্বাক্ষরের দিনের ঠিক আঠেরো মাস পরে ভারতের হাতে আসবে। যে ৫৮ হাজার কোটি টাকা ভারতের দেওয়ার কথা, সেই টাকাও ভারত ধাপে ধাপে দেবে। অগ্রিম হিসেবে ৮৭০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।
৫৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ভারত যে শুধু ৩৬টি যুদ্ধবিমান পাচ্ছে তা কিন্তু নয়। আনুসঙ্গিক অস্ত্রশস্ত্রও ভারত ফ্রান্সের কাছ থেকে পাচ্ছে। সেই সব অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে রয়েছে মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্র। পৃথিবীতে যত রকমের আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলির মধ্যে এই মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্রকে অন্যতম সেরা হিসেবে ধরা হয়। শব্দের বেগের চেয়ে চার গুণ জোরে ছোটে এই ক্ষেপণাস্ত্র। রাফাল যুদ্ধবিমান এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আকাশে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকা শত্রু বিমানকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
রাফাল এবং মিটিওর-এর এই যুগলবন্দি গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যের ছবি বদলে দেবে, বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ। রাফালের মতো ডাবল ইঞ্জিন মাল্টি-রোল অল ওয়েদার ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্ট আকাশে যে ভাবে দাপট দেখাতে পারে, ভারতের দুই প্রতিপক্ষ চিন এবং পাকিস্তানের কোনও যুদ্ধবিমানই তার ধারেকাছে আসে না। অনেক উচ্চতা থেকে এবং অনেক দূরত্ব থেকে ভূপৃষ্ঠে থাকা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে রাফাল। সঙ্গে মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্র থাকায় রাফাল আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনও দেশের হাতেই ওই ক্ষেপণাস্ত্র নেই। মিটিওরে সজ্জিত ৩৬টি রাফাল ফাইটার ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে আসার অর্থ কী, তা ইসলামাবাদ এবং বেইজিং অত্যন্ত ভাল ভাবেই জানে। তাই রাফাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হতেই চিন্তার রেখা বাড়ছে ভারতের দুই প্রতিবেশীর কপালে।

মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্রের নো এস্কেপ জোনের মধ্যে থাকলে প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমানের পক্ষে বাঁচা অসম্ভব বলা যায়। মিটিওরের নো এস্কেপ জোন সমগোত্রীয় সব ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, চীন এবং পাকিস্তানের যৌথ শক্তির মুখোমুখি হতে হলে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে অন্তত ৪২ স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান থাকা দরকার। কিন্তু ভারতের হাতে এই মুহূর্তে রয়েছে ৩২ স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান। কিন্তু এই দুই দেশের যৌথ শক্তির কথা মাথায় রেখে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রলালয় যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বাড়াতে চায়। ৩৬টি রাফাল ফাইটার বিমান বাহিনীর হাতে আসার অর্থ আরও দু’টি স্কোয়াড্রন বৃদ্ধি পাওয়া। স্বাভাবিক ভাবেই এই চুক্তিতে ভারতীয় বিমান বাহিনী স্বস্তি ঢিরে পেলো।

























