বাংলাদেশে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ অস্বীকার ভারতের
০৭ মে ২০২৬, ১০:৩০ এএম
বাংলাদেশে গত দেড় দশকে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিতর্কিত নির্বাচনে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপ বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর যে অভিযোগ দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে, তা এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় দিল্লির কোনো ভূমিকা ছিল না এবং বাংলাদেশের জনগণই তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করবে- এটিই ভারতের প্রত্যাশা।
সোমবার (৬ মে) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র সচিব মিশ্রির কাছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচনগুলোতে ভারতের কথিত সমর্থন ও কারসাজি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, "অতীতের সব সরকারের সঙ্গেই ভারত কাজ করেছে, কিন্তু কোনো নির্বাচনে কারসাজি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভারতের কোনো সহযোগিতা বা সম্পৃক্ততা ছিল না"। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত সর্বদা বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন দেখতে চায়।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্রম মিশ্রি জানান, ভারত বর্তমানে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। সম্পর্কের ভিত্তি হবে ‘পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভারসাম্য’—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে দুই দেশের স্থগিত থাকা দ্বিপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মগুলো পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আলোচনায় বহুল আলোচিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি ও ভিসা ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতি সবসময় রাজধানী থেকে পরিচালিত হয় এবং ভারত এই সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চায়। এছাড়া, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক করতে ভারত কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ভারতের দেওয়া লাইন অব ক্রেডিট (LoC) বা ঋণচুক্তি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, নতুন সরকার যদি তাদের উন্নয়ন অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আনে, তবে ভারত সেই অনুযায়ী প্রকল্পগুলো সমন্বয় করতে প্রস্তুত। এছাড়া বাণিজ্য বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং প্রস্তাবিত ‘সেপা’ (CEPA) চুক্তি নিয়েও উভয় পক্ষের আগ্রহের কথা জানান তিনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই প্রকাশ্য অস্বীকার এবং বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজের আগ্রহ একটি গঠনমূলক পদক্ষেপ। ভারতের পক্ষ থেকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ অস্বীকার করার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যকার আস্থার সংকট দূর করতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার শ্লথ যোগাযোগ কাটিয়ে উঠে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার এই প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক।
বিক্রম মিশ্রি জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি হলো সাধারণ জনগণ। অতীতের তিক্ততা বা বিতর্কের পুনরাবৃত্তি না করে একটি স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন দিল্লির মূল লক্ষ্য।


























