মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ট্রাম্পের জরুরি হস্তক্ষেপ

নেতানিয়াহুকে ফোন করে বলব ইরানে যেন পাল্টা হামলা না হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ জুন ২০২৬, ১০:০৯ এএম


নেতানিয়াহুকে ফোন করে বলব ইরানে যেন পাল্টা হামলা না হয়

 

ত্তর ইসরায়েলের কৌশলগত সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কর্তৃক দফায় দফায় শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার সরাসরি কূটনৈতিক ময়দানে নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েল যাতে কোনোভাবেই ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো পাল্টা বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা না চালায়—তা নিশ্চিত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে টেলিফোনে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। রোববার হোয়াইট হাউসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি নিজে এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিওস’ কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমি এখনই বিবি (বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু)-কে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে কড়া ভাষায় বলব যে ইরানে যেন কোনো প্রকার পাল্টা হামলা বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না চালানো হয়। তারা উভয় পক্ষই ইতিমধ্যে নিজেদের মতো করে মজা নিয়েছে-ইসরায়েল অতীতে নিজের মতো করে ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানও আজ রাতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ঠিক তা-ই করেছে। সুতরাং এই অঞ্চলে আমাদের আর নতুন কোনো যুদ্ধের বা রক্তক্ষয়ী হামলার প্রয়োজন নেই।” বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সুদীর্ঘ সংঘাতের ইতিহাস টেনে ট্রাম্প আরও বলেন, আজ রাতে ইসরায়েলের ওপর চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌভাগ্যবশত কোনো নাগরিক গুরুতর আঘাত পায়নি বা মারা যায়নি। তাই তিনি দৃঢ়ভাবে আশা করছেন, ইসরায়েল এই ঘটনার পর আর কোনো হঠকারী প্রতিশোধের পথ বেছে নেবে না। তবে নেতানিয়াহু এই পরামর্শ অমান্য করলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সহিংসতা ইসলামের ৩,০০০ বছরের ইতিহাসের মতোই অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, রোববার স্থানীয় সময় মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, শনিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চালানো বর্বরোচিত বিমান অভিযানের দাঁতভাঙা জবাব দিতেই এই বিশেষ মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। আইডিএফের সেই আকস্মিক হামলায় ৪ জন শিশুসহ কমপক্ষে ২০ জন সাধারণ লেবানিজ নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছিলেন, যা ট্রাম্পকেও ক্ষুব্ধ করেছিল।

এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ উপদেষ্টা মোহসিন রেজায়ি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, তারা আন্তর্জাতিক মহলে বার বার অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যে লেবাননে ইসরায়েল কর্তৃক আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং সাধারণ মানুষের ওপর নগ্ন হামলা ইসলামী প্রজাতন্ত্রী ইরান কখনোই সহ্য করবে না। আজ রাতে তারা কেবল সেই আগ্রাসনকারীদের একটি উপযুক্ত ও আইনি জবাব দিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, এটি ছিল শুধুমাত্র একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা, যা অমান্য করলে ইরানের পরবর্তী আঘাত হবে আরও বহুগুণ ব্যাপক।

অন্যদিকে, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তাৎক্ষণিক এক উগ্র ও চরমপন্থী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গিভর। তিনি সম্পূর্ণ যুদ্ধংদেহী ভাষায় সরাসরি হুমকি দিয়ে নিজের অফিশিয়াল এক্সবার্তায় লিখেছেন, “ইরানের এই ধৃষ্টতার কারণে এবার সরাসরি তেহরানকে জ্বালিয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে।” দুই দেশের এমন অনড় অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মুখে ট্রাম্পের এই জরুরি ফোন কল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

Ads