যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক চুক্তি
ভার্চ্যুয়ালি সইয়ে ইতিবাচক মোড়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি
১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
দীর্ঘ তিন মাসের নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখছে মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা। চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আজ রোববার একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তান, কাতার, মিসর ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর উপস্থিতিতে এই দূরবর্তী চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় প্রধান তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। দ্বিতীয়ত, কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। এবং তৃতীয়ত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
কেন এই ‘ভার্চ্যুয়াল’ আয়োজন?
সাধারণত এ ধরনের বড় চুক্তি সশরীরে উপস্থিত থেকে সই করা হলেও, এবার মূলত লজিস্টিকস ও নিরাপত্তা প্রোটোকলের কারণে এটি ভার্চ্যুয়ালি সম্পন্ন হচ্ছে। মার্কিন নিয়মানুযায়ী প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট একসাথে দেশের বাইরে সফর করেন না। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যেন সোমবার সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্রান্স সফরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই দূরবর্তী মাধ্যমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ইরান কোনো নির্দিষ্ট নিরপেক্ষ দেশে (যেমন জেনেভা বা ইসলামাবাদ) সশরীরে গিয়ে চুক্তি সই করতে অনীহা প্রকাশ করায় শেষ পর্যন্ত ইলেকট্রনিক পদ্ধতিকে বেছে নেওয়া হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "আমরা যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন শান্তির চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।" পরবর্তীতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আজ রোববারের ভার্চ্যুয়াল সই অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্পের বার্তা ও সামরিক সতর্কতা
চুক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, "চুক্তিটি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আগের প্রশাসনগুলোর তুলনায় ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন অনেক ভিন্ন এবং ভালো।"
ইরানের পারমাণবিক উপাদান ধ্বংসের বিষয়ে নিজের স্বভাবসুলভ কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলে উপযুক্ত সময়ে মার্কিন বি-২ বোম্বার এবং দক্ষ পাইলটদের মাধ্যমে গ্রানাইট পর্বতের গভীরে থাকা পারমাণবিক ধূলিকণা সংগ্রহ করে তা ডাউনব্লেন্ডের মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি যদি খুব দ্রুত, সহজে এবং মসৃণভাবে বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে তিনি আবারও সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করবেন না।
জি-৭ সম্মেলনে পরবর্তী নজর
আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, এই সম্মেলনে জি-৭ নেতাদের পাশাপাশি মিসর, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারাও অংশ নেবেন। তবে সময়ের জটিলতার কারণে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন না।
জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিসর, কাতার এবং আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের জন্য যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা নিয়েও কথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


























