ভারতের আমন্ত্রণে তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় নয়াদিল্লি- দীনেশ ত্রিবেদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম


ভারতের আমন্ত্রণে তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় নয়াদিল্লি- দীনেশ ত্রিবেদী

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি সাগ্রহে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে এবং এই সফর দু’দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

গত বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ন বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারতের পক্ষ থেকে তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। সফরের বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করলেও তিনি খুব শিগগিরই এই সফরে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, এটি ছিল ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সাথে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। এতে ঢাকা ও নয়াদিল্লি পারস্পরিক স্বার্থ এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে একমত পোষণ করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পারস্পরিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কিছু ‘অস্বস্তিকর বিষয়’ নিরসন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি ভারতীয় হাইকমিশনারের নজরকাড়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এটি মূলত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। ফলে কোনো সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি; তবে আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে সব বিষয় নিয়েই ইতিবাচক আলোচনা হবে।

আসন্ন ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. খলিলুর রহমান জানান, ভারতের আমন্ত্রণে এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনসহ প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চীন ও ওয়াশিংটনের মতো বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতিকে ‘জিরো-সাম গেম’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও অগ্রগতিকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে যেতে চায়।

 

Ads