শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া
০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০১ এএম
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অদম্য নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করতে যাচ্ছে সরকার। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার কার্যক্রমের আওতায় তাঁকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
আগামী ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে কোন একজনকে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে তাঁর অবিচল ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য সাফল্য অর্জনকারী পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসনবেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সম্মাননার পাশাপাশি নিম্নোক্ত পাঁচজন নারী নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পাচ্ছেন:
* অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য- নুরুন নাহার আক্তার।
* শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী- মোছা: ববিতা খাতুন।
* সফল জননী নারী- নুরবানু কবীর।
* নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী ক্যাটাগরিতে- মোছা: শমলা বেগম।
* সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান- মোছা: আফরোজা ইয়াসমিন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এই সম্মাননা প্রদানে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের এক বড় স্বীকৃতি। জীবনের দীর্ঘ সময় কারাবরণ ও নানা শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে যে আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল লক্ষ্য হলো নারীর অধিকার রক্ষা ও অর্জিত সাফল্যকে উদযাপন করা। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম ও ত্যাগের এক বিরল দৃষ্টান্ত, যা তাঁকে ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ হিসেবে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী ৮ মার্চের অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নারী জাগরণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চায় এই পুরস্কার প্রদান একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তৃণমূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীদের সংগ্রামী চেতনাকে উজ্জীবিত করবে।


















