শিলক খাল রক্ষা ও বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন
১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
বান্দরবানে শিলক খাল রক্ষা, বালু উত্তোলন বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাজবিলা ইউনিয়নের সচেতন এলাকাবাসী ও শিলক খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্যরা। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজবিলা ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজবিলা ইউনিয়নের রাবার ড্যাম এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরত্বে বালু উত্তোলন করা হলে রাবার ড্যাম, কৃষিজমি ও স্থানীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, এর আগে রাবার ড্যাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে শিলক খালের ব্রিজঘাটা এলাকায় একটি সেতু ভেঙে যায়। এতে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে ১৫ দিনের বেশি সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।
বক্তারা বলেন, শিলক খালের পানির ওপর নির্ভর করে স্থানীয় কৃষকরা সেচ সুবিধার মাধ্যমে কৃষিকাজ পরিচালনা করেন। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদন, স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যরে ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের প্রস্তাবিত বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন শুরু হলে কৃষিজমি, রাবার ড্যাম ও স্থানীয় অবকাঠামোর পাশাপাশি ছয়টি গ্রামের মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জনস্বার্থ ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা করে প্রস্তাবিত বালুমহালের ইজারা বাতিলের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তারা উন্নয়নের বিরোধী নন। তবে যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রম আইনসম্মত ও পরিবেশসম্মতভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। বালু উত্তোলনের সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে শিলক খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি উসাইনু তালুকদার, উথিচিং মারমা ও উখ্যাই মারমা বক্তব্য দেন।
মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিলক খাল ও রাবার ড্যাম সংলগ্ন বালুমহালের কার্যক্রম বন্ধ, পরিবেশ ও কৃষির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত বালু উত্তোলন স্থগিত, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রস্তাবিত বালুমহালের ইজারা বাতিল এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
মানববন্ধন শেষে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

























