বিরোধীদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে দ্বিমুখী নীতি: লক্ষ্মীপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
সংসদে দায়িত্বশীল ও শালীন আচরণের কথা বললেও রাজপথে বিরোধী দল ১৯৭১ সালের ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে পুঁজি করে বিরোধীদের লংমার্চ কর্মসূচি পালনের যৌক্তিকতা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সরকার গঠনের সূচনা থেকেই বিরোধী দলের অস্থিতিশীল ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "যেদিন আমরা শপথ নিয়েছি, সেদিন তারা সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। প্রথম দিন থেকে শুরু করে গত ৬ মাস ধরে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন তারা আন্দোলনের হুমকি দেননি কিংবা প্রতিবাদের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরির কর্মসূচি দেননি।"
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতির বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাত্র ৬ মাসের মধ্যে একটি দেশের সব সমস্যার সমাধান করা অবাস্তব ও অসম্ভব। একটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপ ও তুষের আগুনের মধ্য থেকে সরকারের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। বিরোধী দলের অব্যাহত সমালোচনার বিপরীতে সরকারের সদিচ্ছার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের সামর্থ্য থাকলে এই ৬ মাসের মধ্যেই লোডশেডিং দূর করে প্রতিটি ঘরে ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতাম। কিন্তু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গ্যাসের প্রয়োজন, যা হুট করেই সরবরাহ করা যায় না।"
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বিরোধী দলসহ দেশবাসীকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "গত ১২ ফেব্রুয়ারির আগে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার যদি সময়মতো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং গ্যাস আমদানির কাজগুলোতে হাত দিত, তবে আমাদের জন্য এই সংকট মোকাবেলা করা অনেক সহজ হতো। ছয় মাসের স্বল্প সময়ে এত বড় সংকট দূর করা সম্ভব হয়নি, আমাদের আরও সময় দিতে হবে—এটিই চরম বাস্তবতা এবং এখানে লুকানোর কিছু নেই।"
সংসদ ও রাজপথে বিরোধী নেতৃত্বের দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, "সংসদে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা আমির সাহেব প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিচার চেয়ে দাবি করেছিলেন, কেন রাষ্ট্রনায়কের পরিবারকে গালিগালাজ করা হয়েছে। এমনকি যারা এমন অশালীন কাজ করেছে, তাদের 'ইতর' আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখছি? তাদেরই মিত্র পাটওয়ারী দীর্ঘদিন ধরে জিয়া পরিবার, তারেক জিয়া এবং সরকারের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের চরম অশালীন ও কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করে যাচ্ছেন। কিন্তু আমির সাহেব বা তাঁর ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোটের কেউ একবারের জন্যও তাঁকে এ ধরনের অরাজনৈতিক আচরণ থেকে বারণ করেননি।"
বিরোধী শিবিরের এই রাজনৈতিক শিষ্টাচারহীনতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, "রাজনীতি ও সমাজে যেসব শব্দ ব্যবহার করা যায় না, বিবেকবর্জিত সেই সমস্ত অশালীন বক্তব্যকে তারা রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা করছে। সংসদে আমির সাহেব মিষ্টি ও সুশীল কথা বলেন, আর লংমার্চ বা রাজপথে গিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন 'ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন'। লংমার্চ থেকে ছাত্রদল ও যুবদলের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতিতে যারা ফ্যাসিবাদের আচরণ ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের মুখ থেকেই কেবল এমন ভাষা বের হতে পারে।"
উক্ত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের শীর্ষনেতৃবৃন্দ এবং হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।






























