শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রোববার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে শনিবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক।
জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন। বিভিন্ন আসামিকে ফেরত আনার যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে, সেটি দ্রুত শেষ করতে ভারত সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।
প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আসামিদের ফেরত আনা সম্ভব এবং সেই প্রক্রিয়াই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুঞ্জনও নাকচ করেন শামা ওবায়েদ। প্রধানমন্ত্রী সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু এফবিআইয়ের মামলা বা ভিসা জটিলতার কারণে যেতে পারেননি—এমন গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব গুজবে কান দেওয়া ঠিক নয়।
তিনি সাংবাদিকদের সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এ সময়ে চীন ও মালয়েশিয়া সফরের পাশাপাশি জাতিসংঘ সফরও তিনি সংক্ষিপ্ত ও প্রয়োজনীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করেছেন। প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি দেশে ফিরেছেন।
সান ফ্রান্সিসকোতে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা এবং তাঁর সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ইউসি বার্কলে ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হাই-টেক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা যৌথ উদ্যোগে এলে দেশ এর সুফল পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য তুরস্ক সফর নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরের কর্মসূচি রয়েছে। তবে সফরের সময় ও স্থান সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।




























