ব্যবসা-বাণিজ্যে তরুণদের আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

অয়ন আহমেদ

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম


ব্যবসা-বাণিজ্যে তরুণদের আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সাক্ষাতে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা দ্রুত গড়ে তুলতে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে তরুণ উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

এ প্রসঙ্গে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ওই উদ্যোগের ফলে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের মতো তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। পাশাপাশি নতুন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল।

সাক্ষাতে ডিসিসিআই আয়োজিত আসন্ন বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল জানায়, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। একই সঙ্গে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও সম্ভাবনার বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের মানুষ বারবার আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। তবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দেশ ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের সুযোগের অপব্যবহার করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অতীতে লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশের অর্থনীতি পিছিয়ে পড়েছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। ব্যক্তিগত স্বার্থ ও লোভের কারণে ব্যাংকিং খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads