ছাত্রনেতৃত্বের রাজনীতির নতুন দল; কী বলছে নেতারা?
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:২৫ পিএম
আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে হতিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতৃত্বের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির’ (এনসিপি) আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটছে আজ শুক্রবার। এ জন্য আজ বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দলটি।
দলটি এ অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থকের সমাবেশ ঘটানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানাগেছে। প্রাথমিকভাবে দলের ১৫১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। নতুন দলে তরুণ-যুবকরা অংশ নিচ্ছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেমন সব মত-পথ ও দলের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন, সেই নেতাকর্মীদের একটা অংশই যুক্ত হচ্ছেন নতুন দলে। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারা থেকে আসা ব্যক্তিরাও যুক্ত হয়েছেন এ দলে। এই প্রথম বাংলাদেশে আদর্শভিত্তিক আলাদা আলাদা দলের সব আদর্শের সম্মিলন দেখা যাবে।
আবার রাজনীতিতে দলগুলোর আদর্শিক বৈরিতাও প্রবল। জাতীয়তাবাদী থেকে শুরু করে ধর্মীয়, এমনকি রাজনীতিতে ধর্ম চান না এমন আদর্শের তরুণরাও আছেন নতুন দলে।
নানা আলোচনার মধ্যেই দলটির ভেতরে যে এক ধরনের নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আছে, সেটাও প্রকাশ্যে এসেছে বিভিন্ন সময়। নেতৃত্ব নিয়ে দফায় দফায় সমঝোতা, মনোমালিন্য, সামাজিক মাধ্যমে পালটাপালটি কথার লড়াই দেখা গেছে। অনেকেই মনে করেন ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের লোকজন এক দলে আসার পর সেটা নতুন দ্বন্দ্বের কারণ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, এখানে যারা বিভিন্ন দলের ছাত্রসংগঠন করে আসা, তারা তাদের আগের দলগত আদর্শ বা দলীয় কর্তৃত্ব নতুন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে পারেন। এছাড়া দলটি যখন আস্তে আস্তে বড় হবে বা কর্মসূচি দেবে তখন কিন্তু অন্য দলগুলো থেকে তাদের ভাবাদর্শিক লোকদের মাধ্যমে নতুন দলকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকলেও থাকতে পারে। এই আশঙ্কা কখনই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ফলে এটা তাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে আসতে পারে।
তবে বিভিন্ন দল কিংবা মতের সম্মিলনকে সমস্যা নয়, বরং সুযোগ হিসেবেই দেখছেন নাগরিক কমিটির অনেকেই। সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন দল-মতের লোক যুক্ত থাকায় এটা বরং দলকেই সমৃদ্ধ করবে। তিনি বলেন, আমাদের আলোচনায় ডানপন্থি যেমন, তেমনি বামপন্থি বা অন্যান্য ধারার চিন্তাভাবনাগুলো আসে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে এরকম বহুচিন্তা নেই। তারা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেদিক থেকে দেখলে আমাদের এখানে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা আরও সমৃদ্ধ করে। সেখান থেকে যখন আমরা সিদ্ধান্ত নেই তখন সবাই সেটা সমর্থন করে। সুতরাং এটা কোনো সমস্যা না।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামন্তা শারমিনও মনে করেন অন্য দল থেকে কেউ আসলে সেটা সমস্যার কারণ হবে না। তিনি বলেন, দেখেন যারা সাবেক কোনো দলের, তিনি তো আসলে সাবেক। ওই দল যদি তাদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারতো তাহলে তো তিনি ওই দল ছেড়ে নতুন কোথাও আসতেন না। তাহলে আমরা ধরে নিচ্ছি যে, তারা পূর্বের অবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন একটা ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন।
সামান্তা শারমিন আরো বলেন, এখানে বাম-ডানের বিভক্তি আছে। ধর্মীয় বিভক্তি আছে। এগুলো দিয়ে তো আমরা বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত করতে পারবো না। বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত করতে হলে বাংলাদেশের জন্য যেসব কাজ আবশ্যক সেগুলোতে একমত হওয়া। সেটার জন্য আসলে কোনো দলীয় মতাদর্শ বা ব্যক্তি মতাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ না।
শারমিন আরও বলেন, অ্যাজ এ স্টেট যদি এটাকে ডেভেলপ করতে হয় তাহলে কোনো মতাদর্শ জরুরি না। জরুরি হচ্ছে ক্রাইসিস বুঝতে পারা, মানুষের অধিকার বুঝতে পারা এবং সে অধিকারের জন্য যুদ্ধ করা।
নতুন দলের সংগঠকরা আশাবাদী জুলাইয়ের আন্দোলনের ভেতর দিয়ে যে ঐক্য এসেছে তা ধরে রাখার ব্যাপারে। এরজন্য একক নেতৃত্বের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে চান তারা।
কিন্তু আত্মপ্রকাশের আগেই আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন এবং দ্বন্দ্ব, সেই দ্বন্দ্বে আবার নাগরিক কমিটির অন্তত তিনজন নেতার নতুন দলে না থাকার ঘোষণা শুরুর আগেই এক ধরনের সংশয় তৈরি করেছে।
এর মধ্যেই সাবেক সমন্বয়কদের ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘিরে যে বিভক্তি আর হাতাহাতি, সেটার পরে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘিরেও যে বাড়তি কৌতূহল থাকবে অনেকের তাতে কোনো সন্দেহ নেই।






















