শিক্ষকদের অবহেলায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি রুকসানা আক্তার

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:৫০ পিএম


শিক্ষকদের অবহেলায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি রুকসানা আক্তার

দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনালী চেলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী রুকসানা আক্তার চলতি জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনাই। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন রুকসানা সোনালী চেলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী। সে বিদ্যালয়ের যাবতীয় পাওনা ও পরীক্ষার ফি ও এডমিট কার্ডের ফি দিলেও বিদ্যালয়ে দায়িত্ব প্রাপ্তরা জেডিসি পরীক্ষার জন্য রুকসানার নাম শিক্ষাবোর্ডে পাঠায়নি, তাই ঐ শিক্ষার্থীর এডমিট কার্ড শিক্ষা বোর্ড থেকে আসেনি।

সহ পাটিদের এডমিট কার্ড আসায় রুকসানা মানষিকভাবে ভেঙে পরে।
বক্তারা আরও বলেন, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের অনিয়ম দূর্নীতি মেনে নেওয়া যায় না। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিও বিদ্যালয়ের অনিয়ম দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। তাই জরুরীভাবে কমিটি দায়িত্বে অবহেলার জন্য প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিভাগীয় তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা হউক।
এসময় বক্তব্য রাখেন, অভিবাবক সদস্য আব্দুর রব,মনফর আলী, ওয়াহিদ আলী মুক্তার আলী, মাওলানা সেলিম আহমদ,
শাকাওয়াত হোসেন কবির, মজমধর আলী, আ,মজিদ, জমির আলী, ফরহাদ হোসেন, আলীমুদ্দিন, আসিক মিয়া।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুকসানা আক্তার বলেন, আমি এবার জেডিসি পরীক্ষার্থী আমার বাবা গরীব হওয়া সত্বেও আমাকে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানিনা কেন শিক্ষকরা আমার প্রতি অবিচার করছেন।
আমার জেডিসি পরীক্ষার জন্য আমার নাম বোর্ডে পাঠায়নি। কি ছিল আমার অপরাধ?
শিক্ষার্থীর বাবা কউছর আহমদ জানান গত বছর আমার মেয়ে অ্যাপেনডিসাইটিস ব্যথার জন্য পরিক্ষা না দিতে পারলেও এবছর আমার মেয়ে পরীক্ষার জন্য ভাল প্রস্তুতি নেয়। আমি খুবই আশাবাদী ছিলাম আমার মেয়ে পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করবে। শিক্ষকদের রোশানলে পরে আজ আমার মেয়ে পরীক্ষা দিতে পারে নাই। আমি প্রধান শিক্ষক সহ সকলের দায়িত্বে অবহেলার জন্য বিচার কামনা করি।
ক্লাস শিক্ষিকা তাসলিমা বেগম বলেন, আমার হাতে রুকসানা পরীক্ষার ফি ও এডমিট কার্ডের টাকা দিলে আমি অফিসে জমা দিয়াছি।

অফিস সহকারী রুহুল আমিন বলেন আমি রুকসানার নাম জেডিসি পরীক্ষার তালিকায় দিয়েছি। প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রুকসানার নাম কেটে দেয়।

প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, আমার বিদ্যালয়ে জেডিসি পরীক্ষার্থী রুকসানার আক্তারের নাম জেডিসি পরীক্ষার তালিকায় অফিস সহায়ক পাঠায়নি। আমি প্রধান শিক্ষক হিসাবে সবার নাম জানার কথা নয়, অফিসের খাতা পত্র ও তালিকা তৈরীর দায়িত্ব অফিস সহায়কের।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হেকিম জানান, শিক্ষকদের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। বার বার অপরাধ করবে আমিও চাই প্রশাসনিকভাবে শিক্ষকদের বিচার হউক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহ বলেন, যে শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ নিতে পারেন নাই তার সম্পুর্ন দায়ভার বিদ্যালয় প্রধানকে নিতে হবে।

Ads