দোয়ারায় শিশু নাইমের পরিবার চলছে অটোরিক্সা চালিয়ে
০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:০১ পিএম
শিশু শ্রম আন্তর্জাতিক ভাবে নিষিদ্ধ হলেও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে শিশু নাইমের পরিবার চলছে অটোরিক্সা চালিয়ে। শুধু নাইম নয় তার মত আরও অনেক পরিবার শিশু শ্রমের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। হাওর নদীও মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উন্নয়ন বঞ্চিত অবহেলিত এক জনপদ দোয়ারা। সড়ক যোগাযোগে রয়েছে শত বছরের পিছনে তবু মানুষ হাল ছাড়েনি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এমনই একটি শিশু দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের নৈনগাঁও গ্রামের রইছ আলীর পুত্র নাইম মিয়া(১৩)। সে প্রতিদিন অটোরিক্সা চালিয়ে ৫ সদস্যের পরিবারের হাল ধরেছে। সে দৈনিক ৫/৬ শত টাকা রোজি করে অটোরিক্সা চালিয়ে। নাইম তার নিজ গ্রাম নৈনগাঁও থেকে অটোরিক্সায় মানুষ নিয়ে দোয়ারাবাজার আসে। আবার মানুষ জনকে বাড়িতে পৌছে দেওয়াটাই তার কাজ। দোয়ারা সদর হাসপাতাল থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে দোয়ারাবাজার ২ কিলোমিটার সড়কের গর্ত ও খানা খন্দ হওয়ায় জীবনের মরণ পণ ঝুকি নিয়ে অটোরিক্সা চালিয়ে যাচ্ছে নাইমের মত আরও অনেকে। এই বয়সে শিশু নাইমের হাতে খাতা কলম বই নিয়ে বিদ্যালয়ে পড়াশুনার কথা থাকলেও সে এখন অটোরিক্সার ড্রাইবার। তার দরিদ্র বাবা রইছ আলী শারিরিকভাবে অসুস্থ্য হওয়ায় শিশু নাইম মা বাবা ভাই বোনের জীবন বাঁচাতেই সংসারের হাল ধরে।
নাইম জানায় সব শিশুদের মত আমারও স্বপ্ন ছিল পড়াশুনা করে বড় হওয়ার। দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয়ে সে আশা করাও কাল্পনিক। ইতিমধ্যে বাবা অসুস্থ্য হওয়ায় পরিবারের সকল দায়িত্ব আমার উপর পড়ায় আমি অটোরিক্সা চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছি। অটোরিক্সার ভাড়া দিয়ে যে টাকা পাই তা দিয়ে পরিবার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারের সব কিছুর মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় দিনমজুর লোকদের মানবেতর জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। অটোরিক্সা চালানোও কঠিন, রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় মানুষ অটোতে উঠতে চায় না। আমি শিশু হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি কামনা করছি হাসপাতাল থেকে বাজার পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত নির্মানের জন্য।





















