সুনামগঞ্জ জেলার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত
০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:৩০ পিএম
সুনামগঞ্জ জেলার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুনীতি এবং হাইকোর্টের আইন অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদা বেগমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়। উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে শনিবার সকাল সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসে ৫ ঘন্টা ব্যাপি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে নিয়োগ বানিজ্যে ঘুষ কেলেংকারি ও হাইকোর্টের আদেশ অমান্য এ দুটি বিষয় প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পেয়েছেন তদন্তকারি দল।
তদন্তে জানা গেছে গত বছর সুনামগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যায়লগুলোতে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব হিসেবে (জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে) প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন নিয়ে রমরমা বাণিজ্য ও টাকার বিনিময়ে শিক্ষকদের পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলীর অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক। এছাড়াও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং মন্ত্রী ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশ অগ্রাহ্যের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
সূত্রটি আরো জানায়, সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় ৫০৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমসংখ্যক সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদায়ন করার কথা। এর মধ্যে সম্পূর্ণ অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে ৪৯৯ জনকে পদায়ন করেন পঞ্চানন বালা।
অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে ৪৯৯ জনকে পদায়নের বিরুদ্ধে গত বছর জাতীয়করণকৃত- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৯টি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিট থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষককে পদায়ন না করার জন্য তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সুপারিশ করেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশ অমান্য করে বিদ্যালয়গুলোতে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা হয়।
শিক্ষিকা নমিতা রায় জানান, তাকে দিরাই শহরের কাছাকাছি চানপুর সরকারি বিদ্যালয় থেকে বদলী করে উপজেলার একটি প্রত্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তাকে তার শ্বশুর বাড়ি দিরাই শহরের পার্শ্ববর্তী কর্ণগাঁও বিদ্যালয়ে দেয়ার কথা।
অনেক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, কতিপয় শিক্ষক নেতার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়ে জুনিয়র শিক্ষকদের পছন্দের স্কুলে পদায়নের জন্য জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে আদায় করেছে শিক্ষা অফিস।
উল্লেখ্য, জেলা শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা যেসব শিক্ষকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তাদের প্রত্যেককে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্যাডে সুপারিশ নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েে এ পদায়ন করেন। জেলার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার, দিরাই, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও বিশ্বম্ভরপুরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় নতুন স্কুলগুলো সরকারি হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব হিসেবে প্রধান শিক্ষক পদায়িত হয়।





















