বিয়ানিবাজারের হাওড়াঞ্চল হতে মাদক ব্যবসায়ী আটক

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৫ পিএম


বিয়ানিবাজারের হাওড়াঞ্চল হতে মাদক ব্যবসায়ী আটক

হাওড়াঞ্চল হতে মাদক ব্যবসায়ী আটক

সিলেটের বিয়ানিবাজার উপজেলার হাওড়াঞ্চল হতে এক ভারতীয় নাগরিকসহ দুই ইয়াবা ব্যাবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব-৯।

রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অভিযান পরিচালনাকালে র‍্যাব-৯ এর অপারেশন অফিসার এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম চরম ঝুঁকি নিয়ে দু-তিন কিলোমিটার পিছু ধাওয়া করে এই মাদক কারবারিদেরকে আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬ হাজার ৭ শ পিস নিষিদ্ধ ঘোষিত ইয়াবা টেবলেট। র‍্যাব-৯ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শওকাতুল মোনায়েমের নেতৃত্বে পুরো অভিযানটি পরিচালিত হয় বলে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়।

সিলেট জেলার মুড়িয়া হাওড়। মধ্য শীতের শুকনো হাওড় এলাকার কোথাও বড়বড় ফাটল, তুলনামূলক নিচু এলাকার কোথাওবা কাদাপানিতে ভরা। ভৌগোলিক অবস্থান, চরম প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার সুযোগে মুড়িয়া হাওড় এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসা হচ্ছিল। পাশেই ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এপার থেকে ধাওয়া করলে ওপারে আর ওপার থেকে ধাওয়া করলে এ পারে- এই কৌশলে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। সর্বশেষ গতকাল র‍্যাবের অভিযানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এ হাওড়কে মাদকমুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল।

অভিযানকালে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলাধীন গোবিন্দগঞ্জ গ্রামের মৃত অরেন্ড নমসুদ্রের পুত্র বিনন্দ নমসুদ্র ( ৫৯) এবং সিলেট জেলার বিয়ানিবাজার উপজেলার সুপাতলা গ্রামের মৃত অনীল দাশের পুত্র সুবাস দাশ(৪৯)। আটক সুবাস একটি জুয়েলার্সের মালিক এবং বিয়ানিবাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন বলে জানা গেছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানাধীন দক্ষিন দোভাগে অবস্থিত মুড়িয়া হাওড়টি মাদক ব্যবসায়ের রুট হিসেবে সর্বজন বিদিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনোই এখানে অভিযান চালিয়ে সফল হতে পারেনি। কারন এখানকার বাসিন্দা ছাড়া অন্যদের পক্ষে ফাটল ও কাদাপানি ভর্তি খানাখন্দে ভরা এই হাওড়ে দৌড়ঝাঁপ দূরের কথা নিরাপদে হেঁটে চলাও কঠিন।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও চরম সাহসিকতার দৃষ্টান্ত রেখে অভিযানটি পরিচালনা করা এবং মাদক কারবারিদেরকে আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করায় র‍্যাবকে ধন্যবাদ জানিয়েছে হাওড়াবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় র‍্যাব-৯ কর্তৃক মুড়িয়া হাওড় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়। অভিযান চলাকালে এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যেতে থাকলে এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম তার ফোর্সদের নিয়ে হাওড়ের দুই তিন কিলোমিটার বিপদসংকুল পথ ধাওয়া করে দক্ষিণ দোভাগ এলাকার ব্রীজের নিকট থেকে আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করেন। আসামীদেরকে ধাওয়া করতে গিয়ে হাওড়ের ফাটলে পা আটকে গিয়ে যে কোন মুহূর্তে পা ভেঙ্গে গুরুতর আহত হতে পারেন- এমন সম্ভাবনা সত্ত্বেও র‍্যাব সদস্যরা এই অভিযান হতে পিছপা হন নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, মুড়িয়া হাওড়কে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা ছিল তাদের। অবশেষে গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ আসামিদেরকে আটক করা হয়। প্রকৃতির এই লীলাভূমিকে মাদকের করালগ্রাসমুক্ত রাখার সবরকম পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন র‍্যাব-৯ এর এই আলোচিত কর্মকর্তা।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং আসামী বিনন্দ নমসুদ্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ১৯৫২ সালের ‘দি কনট্রোল অব এন্ট্রি এক্ট’ এ মামলা দায়ের পূর্বক বিয়ানিবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম।

এদিকে একই দিন রাতে পৃথক অভিযানে জেলার জকিগঞ্জ থানাধীন শীতলজোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ শ ৫ পিস ইয়াবাসহ ময়নুল হক(২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব-৯। আটক ময়নুল থানা এলাকার ফুলহাট গ্রামের আব্দুল মানিকের পুত্র। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য জকিগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

Ads