মাধবপুরের মৃৎশিল্পীদের মানবেতর জীবনযাপন

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৪ মে ২০২০, ০৯:৩৯ পিএম


মাধবপুরের মৃৎশিল্পীদের মানবেতর জীবনযাপন

মাধবপুরের মৃৎশিল্পীদের মানবেতর জীবনযাপন। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

বিশ্বব্যাপী বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে পরছে। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় করোনার প্রভাবে কষ্টে জীবনযাপন করছেন মৃৎশিল্পীরা। করোনা ভাইরাসের কারণে মাধবপুরের বিভিন্ন এলাকার হাটে-মাঠে-ঘাটে ও নদীর পাড়ে প্রতিবছর যে সমস্ত নির্ধারিত চৈতালি, বৈশাখী ও নববর্ষের মেলা বসতো এবার সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে কোথাও কোন মেলা বসেনি।

মেলাগুলো না হওয়ায় মাটির হাড়ি পাতিল খেলনা তৈরী করে যাদের জীবন জীবিকা চলত সেই সব মৃৎশিল্পী পরিবারগুলো এখন দিনাতিপাত করছে খুব কষ্টে। তারা বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত মাটির,চুলা,হাড়ি পাতিল বিভিন্ন উপকরণের খেলনাগুলো তৈরী করেছিল কিন্তু করোনার ফলে মেলা-বান্নি না হওয়ায় সেগুলো বিক্রি করতে না পেরে এখন অর্থাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সোমবার ৪ মে সরেজমিনে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের নারায়ন পুর গ্রাম ও বুল্লা ইউনিয়নের বুল্লা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তাদের বাড়ির উঠানে পড়ে আছে নানা ধরনের মাটির তৈরি খেলনা হাড়ি পাতিল। বুল্লা গ্রামের মৃৎ শিল্পী অঞ্জনা  জানান, নানা প্রতিকূলতা সত্বেও আমারা এখনও আমাদের পৈত্রিক পেশাকে আঁকড়ে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করছি কিন্তু মাহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে কোন মেলা না বসায় তৈরি করা মাল গুলি বিক্রি করতে পারিনি ফলে আমরা মহা বিপদে পরে গেছি।

শুধু মেলাতেই এসব পণ্যের বেঁচা কেনা বেশী হয় বলেই এর প্রকৃত মৌসুম হচ্ছে ফাল্গুন থেকে জ্যৈষ্ঠ ৪ মাস। অন্য সময়ে এসব জিনিষের চাহিদা যেমন থাকে না তেমনি বর্ষা মৌসুমে বান-বন্যার সময়টিতে এসব জিনিষ তৈরী করাও সম্ভব হয় না বলে জানালেনএই মৃৎ শিল্পী।

রঞ্জিত নামে আরেক মৃৎ শিল্পী বলেন ,আমরা অনেক পরিশ্রম করে লাভের আশায় নানান ধরনের খেলনা ও হাড়ি পাতিল তৈরি করেছি বৈশাখী মেলায় বিক্রি করার আশায় কিন্তু করোনা ভাইরাস আমাদের সেই আশা কে নিরাশ করে দিবে তা কল্পনা ও করিনি। তাই তিনি সামনের দিনগুলির জন্য শিল্প মন্ত্রাণালয়ের কাছে ঋন সুবিধা দেওয়ার জন্য আবেদন জানান তারা।

Ads