শিকারিদের উৎসবের স্থান কুলাউড়ার রাজার দিঘি

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৬ আগস্ট ২০২১, ১২:৫৯ এএম


শিকারিদের উৎসবের স্থান কুলাউড়ার রাজার দিঘি

কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাজার দিঘীর পাড়ে সৌখীন মৎস্য শিকারীরা বড়শী উৎসবে যোগ দিয়ে মাছ শিকার করছেন ব্যস্ত। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

ভোর ৬ টা , সূর্যের আলো তখনও ভালোভাবে ছড়ায়নি । বড়শি, কাকরাইল সাথে মাছ শিকারের জন্য ব্যাগভর্তি মাছের খাবার নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ শিকারীরা ছুটছেন আপন গতিতে । লক্ষ্য কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাজার দিঘী। জানা গেলো বড়শী উৎসবে যোগ দিতে সৌখীন মৎস্য শিকারীরা জড়ো হচ্ছেন এখানে।


এমন আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানুষের মিলনমেলার সৃষ্টি হয় উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের দেওগাঁও গ্রামের রাজার দিঘীর পাড়ে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে সমাগম। সাড়ে ৭ একর জায়গা জুড়ে দিঘীর পাড়ে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরী ৬৫ টি মাচাতে বসে শতাধিক সৌখীন শিকারী বড়শী দিয়ে মাছ ধরেন।

 

মঙ্গলবার ভোর ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অব্দি দিনব্যাপী এ বড়শী উৎসবের আয়োজনে যোগ দেন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সৌখীন মৎস্য শিকারী দল।

 

শিকারীদের সাথে আলাপকালে জানা যায় , সকাল থেকে বড়শী দিয়ে মাছ ধরছেন তাঁরা। রুই, মৃগেল, কাতল, বাউশ মাছ বড়শীতে ধরা পড়লেও ওজন ও আকৃতিতে অনেক ছোট। একেকটি মাছের ওজন সর্বোচ্চ এক কেজি। সারাদিনে কেউ ১০ কেজি আবার কেউ ১৫ কেজি মাছ ধরেছেন। এই দিঘীটি এত বড়, আশা ছিলো ৭ থেকে ৮ কেজি ওজনের মাছ বড়শী দিয়ে ধরতে পারবো। এজন্য ভালো বড়শী ও বেশ আদার (মাছের খাবার) নিয়ে এসেছিলাম। সেই আশা পূরণ হয়নি। দীঘিতে বড় আকৃতির মাছ তেমন নেই। যা আছে সেগুলো ছোট আকৃতির। তবে আগে দিঘীতে দেশীয় প্রজাতির বিশাল মাছ পাওয়া যেতো।

 

প্রবীণ রাজনীতিবিদ কমরেড আব্দুল মালিক ও লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম রুবেল জানান, ‘ইতিহাস থেকে জানা যায় বাংলা ১২০০ শতাব্দির দিকে তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা দেও সিং এটি খনন করেছিলেন। সেই থেকে এটি রাজার দিঘী নামে পরিচিত। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী দিঘী। এটির সংস্কার ও সংরক্ষণ দরকার।’

 

দিঘী লিজ গ্রহণকারী জুবের আহমদ জুয়েল জানান,  এ উৎসবে শতাধিক মানুষ অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি মাচায় দুইটি করে বড়শী নিয়ে মাছ শিকার করছেন। আমরা লীজ নেওয়ার দেড় বছর পর এই প্রথমবার বড়শী উৎসবের আয়োজন করি। প্রতিটি মাচার টিকেটের মূল্য ২ হাজার ৫শত টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বছরে দুই থেকে তিনবার বড়শী উৎসবের চিন্তা ভাবনা রয়েছে।

 

Ads