ছাতকে যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
০৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৬ পিএম
গ্রাফিক্স- প্রতিদিনের চিত্র।
সুনামগঞ্জের ছাতকে যৌতুকের টাকার জন্য নাজমিন বেগম(২৬) নামে এক গৃহবধূকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও বাড়ির পুকুরের ডুবিয়ে গৃহবধূকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার সকালে নিখোঁজ গৃহবধুর লাশ স্বামীর বাড়ির পুকুর থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।
সে ছাতক উপজেলার ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের লাকেশ্বর গ্রামের ছুরাব আলী মেয়ে নাজমিন বেগম(২৬)। উপজেলার দোলারবাজার ইউপির কাটাশলা গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।
জানাযায়, যৌতুকের জন্য মারপিট নির্যাতন করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে বাবার কাছে টাকা আনার জন্য নাজমিনকে চাপ দেয়া হয়। পরের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে টাকা আনতে বাবার বাড়িতে চলে যান নাজমিন। এবং নাজমিন বাবার বাড়িতে ১৬দিন অবস্থান করে। এরপর গত ২ অক্টোবর নাজমিনের স্বামী সুমন মিয়া শশুরবাড়িতে গিয়ে মান অভিমান শেষ করে তার স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরে নিয়ে আছেন।
সূত্রে জানাগেছে, ওই রাতে সামান্য বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবার ঝগড়া বাধে। এ ঘটনার জের ধরেই স্বামীর পরিবারে লোকজন নাজমিনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পুকুরে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে গত ৩ অক্টোবর সকালে থেকে গৃহবধু নিখোঁজ তাকে খুজে পাচ্ছে বলে তার নাজমিনের বাবার বাড়িতে মোবাইল ফোনে খবর দেয়।
গত সোমবার সকালে নিখোঁজের একদিন পর তার স্বামীর বাড়ির পুকুরে গৃহবধুর লাশ ভেসে উঠেছে। স্থানীয় লোকজন জাহিদপুর পুলিশ ফাড়িকে খবর দেন। এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
পুলিশ ও গ্রামবাসি জানায়, গৃহবধুর দেহের মধ্যে মাথা, বুক ও পিটে একাধিক আঘাতের দাগ রয়েছে। স্বামীর বাড়ির লোকজন নাজমিনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে পুলিশ ধারনা করেছে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা ছোরাব আলী বাদী হয়ে স্বামী সুমন মিয়া, তার বাবা সময় আলী ও তার মা দিলারা বেগমকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
উপজেলার ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের লাকেশ্বর গ্রামে ছোবার আলীর কন্যা নাজমিন বেগমের সঙ্গে একই উপজেলা দোলারা বাজার ইউপি কাটাশলা গ্রামে সমর আলীর ছেলে সুমন মিয়া সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। নিহতের পিতা ছোরাব আলী জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নাজমিনকে নির্যাতন করতেন স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। নির্যাতনের বিষয়টি বেশ কয়েকবার শালিশ বৈঠক অনুষ্টিত হয়। পরে স্বামীসহ অন্যরা মিলে নাজমিনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজিম উদ্দিন এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ খবর পেয়ে (ছাতক দোয়রাবাজার) সার্কেল বিল্লাল আহমদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।





















