প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া কাজে যোগ দেবে না চা বাগান শ্রমিকরা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৫ আগস্ট ২০২২, ০৪:৫৩ পিএম


প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া কাজে যোগ দেবে না চা বাগান শ্রমিকরা

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

জুরি বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর  ঘোষনা ছাড়া কাজে যোগ দিবেন না বলে ধর্মঘট করছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে দলই ভ্যালী ক্লাবে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।

 

মতবিনিময় সভায় চা শ্রমিকদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানানো হলেও তাদের দাবি, মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চাই, ঘোষনা ছাড়া কাজে যোগ দেবেন না কোন শ্রমিক।

 

এসময় চা শ্রমিক নেতারা বলেন, চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি ঘোষণা না আসলে চা শ্রমিকদের আন্দোলন চলমান থাকবে।

 

চা বাগানে আন্দোলনরত শ্রমিকরা দাবি করেন, আজ টানা ১৩ দিন হলেও আমাদের ৩০০ টাকা মজুরি বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহান শুরু হয়েছে। একবার ১৪৫ টাকার কথা বলা হচ্ছে। আবার প্রধানমন্ত্রী মজুরি ঘোষণা করবেন বলে কাজে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। ঘরে খাদ্য নেই, রেশন নেই, মজুরি নেই কিভাবে সংসার চলবে। তবে প্রধানমন্ত্রী এই মুহুর্তে মজুরি ঘোষণা না করলেও টেলিভিশনেও যদি তিনি ঘোষণা দেন আমরা সাথে সাথেই কাজে যোগ দেবো। তা না হলে যত দ্রুত সম্ভব ৩০০ টাকা মজুরি চুক্তি বাস্তবায়ন করার দাবি জানান।

 

এ দিকে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন বলেন, চা শিল্পের স্বার্থ বিবেচনা করে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু চা শ্রমিকরা মজুরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে ঘোষণা শুনতে চান। আমি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জানাবো ।

 


চা শ্রমিকদের আন্দোলন বিষয়ে শ্রীমঙ্গলস্থ শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম বলেন, চা শ্রমিকদের মজুরি চুক্তির বিষয়টি সর্ব্বোচ্ছ পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত আছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এখন পর্যন্ত আর কোন আলোচনা হয়নি। তবে ধ্বংসাত্মক কিছু যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আমরা তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করছি।

 

উল্লেখ্য, বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দৈনিক মজুরি ১২০টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বৃদ্ধির দাবীতে গত ৯ আগস্ট থেকে প্রতিদিন দুই ঘন্টার কর্মবিরতি ও ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট করছেন সারা দেশের চা শ্রমিকরা।

Ads