নিম্নমানের আলুবীজে ক্ষতিগ্রস্থ আক্কেলপুরের কৃষক

চৈতন্য চ্যাটার্জী

২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৭ পিএম


নিম্নমানের আলুবীজে ক্ষতিগ্রস্থ আক্কেলপুরের কৃষক

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

 

য়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় প্রায় ৮২ বিঘা জমিতে আলুবীজের চারা ঠিকমতো হয়নি। কোনো খেতে চারাগাছ ওঠার পর মাটির ভেতর আলুর বীজ পচে গেছে। আবার কোনো খেতের অধিকাংশ স্থানে আলুর বীজের চারা হয়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার ৫২ জন কৃষক।

 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা আক্কেলপুর কলেজ বাজারের কাজী মেহেদী হাসান ডানোর মেসার্স বিসমিল্লাহ ভান্ডার, মেসার্স কামাল ট্রেডার্স, আব্দুর রাজ্জাক ট্রেডার্স,  থেকে ব্রাক, নীলসাগর, হীরা ও ইস্পাহানি আলুর বীজ ক্রয় করে । কৃষকরা জানান দোকানদাররা বলে এই আলুর গুলো বীজ বর্তমান বাজারের সেরা আলুর বীজ। কিন্তু প্রায় এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও আমাদের রোপনকৃত আলুর বীজ থেকে গাছ উঠে নাই  কিছু কিছু জমিতে মাটির নিচে আলুর বীজ পচে গেছে । আমরা কৃষকরা আলুর বীজ রোপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কৃষকরা ডিলারদের নিকট গিয়ে এই ব্যাপারে অভিযোগ করলে তাঁরা কৃষকদের  বলেন যে, আলুর ব্যাপারে কিছু জানি না, তোমাদের যা করার তাই করো।

 

আক্কেলপুর কলেজ বাজারের আলুর বীজ ব্যবসায়ী কাজী মেহেদী হাসান ডানো, আবু কামাল ও আব্দুর রাজ্জাক ডিলার দের ভাষ্য, কৃষকদের সমস্যা জানার পর আমরা কোম্পানিকে জানিয়েছি। তাদের কর্মকর্তারা এলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁদের দাবি, আগে কোনো বছর এমন ঘটনা ঘটেনি। এবারই প্রথম। ডিলারগণরা আরো বলেন, আবহাওয়া, বৃষ্টি ও সেচের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

 

আজ বুধবার উপজেলার চিয়ারী গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আলুখেত। অনেকে আলুর চারা পরিচর্যা্ করছেন। বেশ কয়েকটি খেতে আলুর বীজের চারাগ্রাছ ওঠেনি। আবার মাটির ভেতর আলু পচে নষ্ট হয়েছে।

 

কয়েকজন কৃষক জানান, আলু বীজ ক্রয় করার সয়ম ভালো মন্দ আলুবীজ চিহ্নিত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। বীজ রোপণের পর জমিতে অধিকাংশ স্থানে পচে যাচ্ছে এবং বীজের চারা উঠছে না।

 

আক্কেলপুর উপজেলার চিয়ারীগ্রামের কৃষক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ঘুরে বেশি দামে  সুপ্রীম সীড কোম্পানির ডায়মন্ড জাতের হীরা বীজ আলু কিনেছিলেন ডিলার কাজী মেহেদী হাসান ডানোর কাছ থেকে। ১২ বস্তা বীজ আলু কেনার সময়ই কিছু কিছু আলুতে কালো দাগ ছিল। এ বিষয়ে ডিলারকে বললে তিনি বলেন কোন সমস্যা নেই। তিনি এভাবেই রোপণ করতেও বলেন। এখন নজরুল দেখেন অধিকাংশ স্থানে গাছ উঠছে না। মাটি সরিয়ে দেখেন বেশির ভাগ আলুর বীজ  পচে গেছে। তিনি আরও বলেন, শুধু আমারই নয়, অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনের একই অবস্থা। এ বিষয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেছেন।

 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করে  অভিযোগের  সত্যতা পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বীজ ব্যবসায়ীদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারের মধ্যস্থতায় চাষীদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বিষয়টি উভয়পক্ষ মেনে নেন। ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোগাক্রান্ত আলু চারা নতুন করে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ প্রদান করছেন । বীজ  ব্যবসায়ীকে ভবিষ্যতে নিম্নমান ও ভেজাল  বীজ সরবরাহ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

Ads