মালিকানা দ্বন্দ্বে বন্ধ থাকা নাঙ্গলকোট টাওয়ার হাসপাতালের কোটি টাকার যন্ত্রাংশ চুরি

জহিরুল ইসলাম রুবেল

২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:৫৪ পিএম


মালিকানা দ্বন্দ্বে বন্ধ থাকা নাঙ্গলকোট টাওয়ার হাসপাতালের কোটি টাকার যন্ত্রাংশ চুরি

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

 

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মালিকানা দ্বন্ধে দীর্ঘ ৮ মাস বন্ধ থাকা নাঙ্গলকোট টাওয়ার হাসপাতাল নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে কোটি টাকার যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটি চুরি হওয়ার ঘটনাটি জানতে পারে। ওই দিন রাতেই থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইয়াছিন আরাফাত ও দয়াল খোকন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে মানুষের কাছে থেকে শেয়ার নিয়ে পৌর সদরের হরিপুর গ্রামে রোকেয়া স্পেশালাইজড নামের একটি হাসপাতাল করেন ইয়াছিন আরাফাত নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা। এতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যায় হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী টাকার লেনদেন নিয়ে রোকেয়া স্পেসালাইজড হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডাদের মধ্যে দ্বন্ধ শুরু হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারী এনিয়ে উভয়পক্ষ বিচার শালিস বসেন। শালিসে উভয় পক্ষে স্বানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের নিকট ননজুডিশিয়াল অলিখিত স্টাম্প প্রদান করেন। পাশাপাশি হাসপাতালের চাবি শালিসদার নুরুল আফসার নয়নের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

পরে দয়াল খোকন নামের এক শেয়ার হোল্ডার স্টাম্প গুলো কৌশলে নিয়ে রাতের আধারে হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে নাঙ্গলকোট টাওয়ার হাসপাতাল নামকরণ করেন। এ ঘটনায় ইয়াছিন আরাফাত বাদী হয়ে স্টাম্প উদ্ধারের জন্য কুমিল্লার আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে ইয়াছিন আরাফাতের পক্ষে রায় আসে। এর মধ্যে গত ২০ ডিসেম্বর রাতে বা তার আগে কে বা কারা হাসপাতালের মূল গেইটের তালা ভেঙে হাসপাতালের সকল মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। হাসপাতালের যন্ত্রপাতির মধ্যে অল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি মেশিন, ৭টি কম্পিউটার পিন্টার, প্যাথলজির সকল সেটআপ ও সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর ডিবিআরসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

 

এ বিষয়ে ইয়াছিন আরাফাত বলেন, হাসপাতালটির শুরুতে দয়াল খোকনকে ব্যবস্থাপনার পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। লেনদেন নিয়ে হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার মধ্যে দ্বন্ধ শুরু হয়। পরে এনিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। শালিস বৈঠকে শালিসদারেরা স্বানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের নিকট ননজুডিশিয়াল অলিখিত স্টাম্প প্রদান করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের চাবী শালিসদার নুরুল আফসার নয়নের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার দয়াল খোকন কৌশলে স্টাম্প সরিয়ে নেন। পরে স্টাম্প উদ্ধারের জন্য তিনি আদালতে মামলা করে আদালত তার পক্ষে রায় দেন। এর মধ্যে দয়াল খোকন ভবনের মালিক মোবারক হোসেনকে হাত করে এক রাতে হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করেন। ২০ ডিসেম্বর বা তার আগে দয়াল খোকন হাসপাতালের সকল যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। এগুলো ভারি যন্ত্রাংশ। এক রাতে নেয়া সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আইনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দয়াল খোকন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ভবন মালিক ফোন করে বলেন, হাসপাতাল চুরি হয়েছে। আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের সকল মামলা চুরি হয়ে গেছে। তিনি ধারণা করছেন ইয়াছিন আরাফাত তার লোক দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। তিনিও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

ভবন মালিক মোবারক হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দেখেন ভবনের মূল ফটকে তালা নেই। তাৎক্ষণিক এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের ঘটনাটি জানানো হয়। পরে হাসপাতালটি পরিদর্শন করে পুলিশ।

 

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, এটা চুরির ঘটনা নয়। হাসপাতালটি নিয়ে দু'পক্ষের দ্বন্দ্ব থাকায় এ ঘটনাটি হয়েছে। উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Ads