খেজুরের রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরিতে ব্যস্ত আক্কেলপুরের গাছিরা

চৈতন্য চ্যাটার্জী

১৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:১৫ পিএম


খেজুরের রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরিতে ব্যস্ত আক্কেলপুরের গাছিরা

 

শীত বাড়তে থাকায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। আর সেই রস থেকে বাগানে তৈরি করা হচ্ছে সুস্বাদু গুড়। পিঠাপুলি তৈরিতে খেজুর রসের খাঁটি গুড় কিনতে প্রতিদিন বাগানে ভিড় করছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

আগের দিন বিকেল বেলায় শীত উপেক্ষা করে গাছে পরিচর্যা সহ  মাটির হাঁড়ি (ঠিলা) লাগায়। ভোরের আলো ফোঁটার আগেই গাছিরা ছুটছেন খেজুর গাছে বেঁধে রাখা সেই মাটির ঠিলাতে ফোঁটা ফোঁটা করে সংগ্রহ করা রস নামাতে। গাছ থেকে সংগ্রহ করা রস নামিয়ে  বড় পাত্রে একত্র করছেন। এরপর টিনের পাত্রে ঢালছেন ছাঁকনিতে করে। কয়েক ঘণ্টা  খড় কুটা দিয়ে জ্বালিয়ে রূপান্তরিত করা হচ্ছে সুস্বাদু গুড়। পরে টিনের পাত্র থেকে বাগান চত্বরে মাটির ছোট ছোট সাজানো পাত্রে ঢেলে কিছুক্ষণ ঠান্ডা করলেই পরিণত হয় গুড়ে। আর তৈরিকৃত সুস্বাদু গুড় ক্রয়ে দূরদূরান্ত থেকে আক্কেলপুরে ছুটে আসছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

আক্কেলপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় অবস্থিত খেজুর গাছগুলোর পরিচর্যার মাধ্যমে শীতজুড়ে গুড় উৎপাদন করছেন গাছিরা। শীতে পিঠাপুলি তৈরিতে খেজুর রসের খাঁটি গুড় সংগ্রহে ছুটছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় ক্রেতারা জানান, ভোর রাত থেকে রস নামিয়ে বাগানেই জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করায় বলা মুশকিল শুধু রস দিয়েই গুড় তৈরি হচ্ছে নাকি চিনি মিশ্রিত। তারপরেও মানুষ বিশ্বাস করে গুড় কিনছেন।

আক্কেলপুর পৌরসভার বধ্যভূমি এলাকায় অবস্থিত পেট্রোল পাম্প–বাইপাস মোড় সড়কে সারি সারি খেজুর গাছ সেই গাছগুলোতে পরিচর্যার করছিলেন  নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের গাছি আতাহার আলী  ও ছোট ভাই মহির উদ্দীন বলেন, খেজুর গাছ পরিচর্যার প্রথম অবস্থায় গাছের ৩ ভাগের এক ভাগ কেটে নিতে হয়। কাটার দিন  থেকে ৩/৪ দিন পর রস সংগ্রহ শুরু হয়। এসময় প্রথম অবস্থায় ৩ থেকে ৪ কেজি করে রস পাওয়া যায় এবং রস সংগ্রহ পুরনো হলে ওই গাছ থেকেই ৫ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত রস পাওয়া যায়। আমরা এবার ১১০ টি গাছে ঠিলা লাগিয়ে রস সংগ্রহ করছি। অতি ভোরের খেজুরের রস সংগ্রহ করে তা দিয়ে নির্ভেজাল সুসাদু গুড় তৈরি করে বিক্রয় করি। গুড়ে কোনো প্রকার ভেজাল দেয়া হয় না। এখন শীত বাড়ছে তাই গুড় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

আতাহার আলী আরও বলেন, আমরা বাব-দাদার আলম থেকে পাবনা জেলার জোরগাছী, নওগাঁ জেলার আত্রাই, রানীনগর, শাহগোলা এমনকি কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেছি। আক্কেলপুরে প্রায় ৫বছর ধরে এ কাজ করছি। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ কেজি গুড় বাজারে বিক্রি করি।

গাছি বলেন প্রতি বছর বাংলা মাসের অগ্রহায়ণের শেষ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত খেজুর রস সংগ্রহ করা যায়। রস যদি লাল রংএর হয় তাহলে ৫কেজি তে ১ কেজি করে গুড় পাওয়া যায়। গুড়ের ব্যবসায় ভালো টাকা আয় করে সংসার চলচ্ছে।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুনজুরুল আলম বলেন, আক্কেলপুর উপজেলায় প্রতি বছরের মতো এবারো খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করা হচ্ছে। তবে গুড়ে যেন ভেজাল মেশাতে না পারে সে বিষয়েও তদারকি করার জন্য স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

 

Ads