মান্দায় ৮০০ একর খাস জমি রক্ষায় ইউএনওর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
২১ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:০১ পিএম
নওগাঁর মান্দা উপজেলার উথরাইল বিলে দখল হয়ে যাওয়া ৮০০ একর খাস জমি উদ্ধারে এবং বেহাত হওয়া ব্যক্তি মালিকানার জমি প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ আলম মিয়ার নেতৃত্বে দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) উথরাইল বিল এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পে এই গণশুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনেই ভাঁরশো ইউনিয়নের চারটি মৌজার অন্তত আড়াইশ কৃষক এতে অংশ নেন।
ইউএনও শাহ আলম মিয়া জানান, গণশুনানির আগে স্থানীয়দের এ বিষয়ে জানানো হয়। জমির সঠিক কাগজপত্রসহ আগ্রহীরা এতে নিবন্ধন করেন। এরপর অংশগ্রহণকারীরা জমির পক্ষে-বিপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের প্রমাণ সঠিক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, তাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের জমি যদি কেউ দখলে রাখে, তবে তাকে দখল ছাড়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ‘ক’ তপশিলভুক্ত খাস জমি অনেকে দখল করে রেখেছেন। এসব জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে অফিসের কাজ সরাসরি মাঠ পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক নাহিন প্রামাণিক বলেন, তাদের দুটি আলাদা খতিয়ানে থাকা ১৪ বিঘা জমি ১২ বছর ধরে অন্যের দখলে ছিল। বাবার মৃত্যুর পর জমি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ইউএনওর উদ্যোগে তিনি জমি উদ্ধারের আবেদন করেন এবং শুনানিতে তার পক্ষে রায় এসেছে। জমি দখলদারদের নোটিশ পাঠানোর পর জমি দখলমুক্ত হবে বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল জানান, বিল এলাকার জমি নিয়ে প্রতি বছর মারামারি এবং মামলা-মোকদ্দমা লেগেই থাকত। প্রশাসনের এই উদ্যোগ সফল হলে প্রকৃত জমির মালিকরা যেমন স্বস্তি পাবেন, তেমনি সরকারের খাস সম্পত্তিগুলোও সরকারি নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, “মান্দা উপজেলাসহ পুরো জেলায় হাজার হাজার বিঘা খাস জমি এবং পুকুর দখল হয়ে আছে। এসব উদ্ধার করাই আমাদের প্রধান কাজ। ইতোমধ্যে বেশ কিছু জমি ও পুকুর উদ্ধার করা হয়েছে। যেসব জমির বিপরীতে মামলা রয়েছে, সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য আদালতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হচ্ছে। গণশুনানির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
গণশুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন জাহান লুনা, মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গনি, সেনাবাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ।
প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। জমি উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও স্থানীয় বিরোধ মেটানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















