ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
৩০ মার্চ ২০২৫, ০১:৩২ পিএম
ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ অনিয়ম দূর্নীতির তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ তুলে ধরেছেন তারিই পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম হোসেন।
এদিকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে অপপ্রচার করা ওই ইউপি সদস্য সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে সেলিম হোসেন বাদে প্রায় ১০ জন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। গতকাল শনিবার বেলা ১২ টায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। পরে কাশিড়া বাজারে সেলিম হোসেনের অফিস ঘরে বেলা দুটায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় “সেলিম মেম্বার কাশিড়া” নামের ফেসবুক আইডি থেকে ২৫ মিনিট ধরে লাইভে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ-দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন সেলিম হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিড়ার দীঘিরপাড় গ্রামে উন্নয়ন মূলক কাজ চলমান। সেই কাজে বাঁধা প্রদান করেন ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন। বিগত পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের সে দোসর ছিলেন সেলিম। পরিষদের বিভিন্ন কাজে অনিয়মের অভিযোগে আমি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করি। তার প্রেক্ষিতে গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে অপপ্রাচার করেন। এতে আমার সম্মানের মান হানি হয়েছে। এঘটনায় আমি পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বসে আলোচনা করে সেলিমের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

অপরদিকে ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন ফের চেয়ারম্যানের অনিয়ম ঘুষ-দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে দু’জন ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।
সেলিম হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতার সুবিধাভোগীর তালিকায় নাম উঠাতে ৮-১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন চেয়ারম্যান। ভাতা ভোগীর পর সেই কার্ড আবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করে ফের অন্য জনের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাঁর নাম তালিকায় তুলে দেন। অনেকের কাছ থেকে তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নিলেও তালিকায় তাঁদের নাম উঠাননি তিনি, পড়ে সেই ঘুষের টাকা ফেরৎও দেননি তিনি।
সেলিম হোসেন বলেন, কাবিটা প্রকল্পের আওতায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে দীঘিপাড় গ্রামে ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছিল। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সেটি আমরা কেউ জানতাম না। মিস্ত্রিরা রাস্তার কাজ করছিলেন। এ রাস্তার কাজে ভাঙাচুড়া ইট ব্যবহার করা হচ্ছিল। লোকজন নিম্নমানের ইট সোলিং রাস্তার কাজের কথা আমাকে জানান। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙাচুড়া ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে দেখে ছবি তুলেছি। ভালো ইট দিয়ে কাজ করার কথা বলেছি। এতে ইউপি চেয়ারম্যান আমার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। তিনি আমার বিরুদ্ধে প্রকল্পে কাজ বন্ধ করার অভিযোগ তুলে আমাকে সময় বেঁধে দিয়ে কারণদর্শোর নোটিশ দেন। আমি বৃহস্পতিবারে নোটিশের জবাব দিয়েছি ইউপি চেয়ারম্যান তা গ্রহন করেনি। ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে কারণর্দশানোর নোটিশের জবাব দিয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না। তিনি মাতৃত্বকালীন ভাতার সুবিধাভোগীর তালিতায় নাম উঠাতে ৮-১০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। অনেকের এখনো মাতৃত্বকালীন সুবিধাভোগীর তালিকায় নাম উঠেনি। তিনি তাঁদের টাকাও ফেরত দেননি। আমার ওর্য়াডে ছয় জন মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতেন। তাঁদের মুঠোফোন নম্বর পরির্বতন করা হয়েছে। কেউ এক বছর আবার কেউ দশ মাস ধরে ভাতা পাচ্ছেন না। ভাতাভোগীদের ৫৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এঘটনায় মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী মোছাঃ মহিদা কাশিড়া খলিফাপাড়ার ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এরপর ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ভাতাভোগীরা বাঁকি টাকা এখনো ফেরত পাননি। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৭ টন জিআর বরাদ্দ হয়েছিল। ইউপি চেয়ারম্যান চালের কাউকে ৪ হাজার আবার কাউকে দশ টাকা দিয়েছেন।
ইউপি সদস্য সেলিম বলেন, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত। গ্রামআদালতের ফৌজদারি ফিস ২০ আর দেওয়ানী ১০ টাকা ফিস। ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ফৌজদারী ও দেওয়ানীর ফিস ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়। মোটা অঙ্কের টাকা হলে বয়স কম-বেশি করে জন্ম নিবন্ধনও মেলে। ওয়ারিশান সনদ ৫০ টাকা পেতে নেওয়া নিয়ম। কিন্তু ২০০ টাকা করে ফিস নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী তছলিম উদ্দিন বলেন, আমার মেয়ের মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকায় নাম উঠানোর জন্য চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের হাতে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছিলাম। মেয়ে আমার কয়েক মাস টাকা পেয়েছিল। তাঁর পর হিসেব নম্বর পরিবর্তন করে আবার একজনকে দিয়েছে।























