আক্কেলপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার

চৈতন্য চ্যাটার্জী

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:০৪ পিএম


আক্কেলপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার

আক্কেলপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, মসজিদের ইমাম মেহাদী হাসান গ্রেপ্তার। ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি

য়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ৮ বছর বয়সী মেয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মেহাদী হাসান (৩০) আক্কেলপুর শান্তনগর সরদার পাড়া মহল্লার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি আক্কেলপুর পৌর সভার একটি মসজিদের ইমাম ও একই মসজিদের পার্শে তা’লিমুল কোরআন নূরানী হাফেজিয়া ও ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষক। গত ১ বছর ১০ মাস যাবত মসজিদ ইমামতি করে। মাদ্রাসাটি তিনি নিজেই পরিচালনা করে আসছেন।

পুলিশ, এলাকা বাসী ও ভিকটিমের পরিবার জানায়, শিশু শিক্ষার্থীটি স্থানীয় একটি মসজিদে সকাল করে ধর্মীয় কোরআন (মক্তব) পড়তে আসে। আজ বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় ওই মসজিদে প্রথম মক্তবের ব্যাচ শেষে ভিন্ন করে দ্বিতীয় মক্তবে ভিকটিমসহ আরেক সহপাটিকে পাঠদান দেন। পাঠদান শেষে ভিকটিমের বান্ধবীকে কৌশলে মক্তব থেকে বের করে দিয়ে ওই শিশুর পরিহিত পাজামা খুলে অভিযুক্ত ইমাম মোঃ মেহেদী হাসান তার লুঙ্গি খুলে পুরুষাঙ্গ ভিকটিমের লজ্জাস্থানে লাগানোর চেষ্টা করে ও  হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করে এবং ভিকটিমকে অভিযুক্ত ইমাম মোঃ মেহেদী হাসান এর পুরুষাঙ্গ নাড়াচাড়া করতে বলে। এতে ওই শিশুটি ভয় পায়। পরে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে দশ টাকা দিয়ে বলে তোমার মাকে যেন বলোনা। ভিকটিম বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনাটি খুলে বললে ওই শিশুর মা মসজিদে এসে অত্র এলাকার লোকজনকে ঘটনা বললে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ইমাম মোঃ মেহেদী হাসানকে তারই মাদ্রাসার একটি রুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। এতে এলাকাবাসী চরম উত্তেজিত হয়ে যায়। পরে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে গিয়ে  অভিযুক্ত ইমাম মোঃ মেহেদী হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

ভিকটিম শিশু শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে সকালে আরবি পড়তে যায়। আরবি পড়া শেষে আমার মেয়েকে হুজুর তার ঘরে নিয়ে গিয়ে মেয়ের জামা খুলে ও হুজুর তার লুঙ্গি খুলে লজ্জাস্থানে হাত দিতে বলেন। পরে দশ টাকা দিয়ে বাড়িতে বলতে মানাও করে।

স্থানীয় এক যুবক বলেন, গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীদের মসজিদে কোরানের আলোকে ধর্মীয় শিক্ষা (মক্তব) পাঠদান করাতেন।  মক্তব শেষে ভিকটিম ও আরেক শিশুকে দ্বিতীয় ব্যাচে ভিন্ন করে পড়াতেন। ভিকটিমকে রেখে তার সহপাঠী শিশু শিক্ষার্থীকে ছুটি দেয়। ভিকটিমকে ইমাম মেহাদী হাসান তার রুমে নিয়ে গিয়ে লুঙ্গি খুলে  ধর্ষণের চেষ্টা করে  এতে ওই শিশুটি ভয় পায় । পরে ওই শিশুকে টাকা  দিয়ে হুজুর এসব বলতে নিষেধ করে। শিশুটি  বাড়িতে গিয়ে তার মাকে খুলে বলে ঘটনাটি। ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় ইমামকে আটক করে রাখা হয়। এধরনের  ইমাম, শিক্ষক নামের অমানুষদের কঠোর শাস্তি চাই।
ভিকটিম ওই শিশু শিক্ষার্থী বলে, সবাইকে ছুটি দিয়ে। হুজুর আমায় ডেকে নিয়ে গিয়ে তার পুরুষাঙ্গ আমাকে লেগে দেয়ার চেষ্টা করে। আর আমায় দশ টাকা দিয়ে বলে কাউকে না বলতে।

উক্ত মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইমাম মোঃ মেহেদী হাসান আরবি পড়ানোর পরে শিশুটির পাজামা খুলে স্পর্শ করার চেষ্টা করেছে।

অভিযুক্ত ইমাম মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে ওই শিশু শিক্ষার্থী পড়তে আসে। আমি পাঠদান দিয়ে ছেড়ে দেই। পরে ওই শিশুর মা ও বাবা এসে জুতা তুলে মার-মুখি হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আমি নাকি তাদের মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করি। আমাকে সকাল ৯টায় থেকে ১১টা পর্যন্ত আটক করে রেখেছে।

আক্কেলপুর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুর ইসলাম বলেন, আজ সকাল ৮ ঘটিকার সময় স্থানীয় লোকজন আক্কেলপুর পৌর সভার একটি মসজিদের ইমামকে আট বছরের একজন শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ করে আটক  রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এবিষয়ে আইনানুক ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
 

Ads