জলবায়ু অভিযোজন ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় রাঙ্গামাটিতে তরুণদের প্রশিক্ষণ
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, স্থানীয় অভিযোজন উদ্যোগ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে রাঙ্গামাটিতে তিন দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাবারাং কল্যাণ সমিতির বাস্তবায়নে 'Resilient Voices" প্রকল্পের আওতায় ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি রাঙ্গামাটিস্ব উদ্যোগ রিসোর্স সেন্টারে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
এ কর্মশালায় তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ মিডিয়া মেকার অংশগ্রহণ করেন। এর লক্ষ্য ছিল জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক ইস্যুতে তরুণদের মিডিয়া সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভিজ্যুয়াল ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা।
কর্মশালার প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির কর্মসূচি পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে তৃণমূল পর্যায়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। ভাই তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তরুণদের মাধ্যমে তুলে ধরা অভ্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাণ, ভিডিও ব্লগিং এবং ভিজ্যুয়াল সাংবাদিকতা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অভিজ্ঞ মিডিয়া ও ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞরা।
"জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ভিজ্যুয়াল সাংবাদিকতা' সেশনে প্রশিক্ষণ দেন অং সিং হ্লা মারমা, যেখানে জলবায়ু সংক্রান্ত সংবাদ উপস্থাপন, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং এবং নৈতিক সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
"সামাজিক মাধ্যমে জলবায়ু ইস্যু তুলে ধরা' শীর্ষক ভিডিও ব্লগিং সেশনটি পরিচালনা করেন দীপ্ত দীপ চাকমা, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গল্প বলার কৌশল ও সচেতনভা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রি-প্রোডাকশন, প্রোডাকশন ও পোস্ট-প্রোডাকশন বিষযে প্রশিক্ষণ দেন আসমা আক্তার বীঘি।
তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালার সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন রুয়াং কালেকটিভস-এর পরিচালক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী সান্তআ ত্রিপুরা।
কর্মশালার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌং। তিনি বলেন, আগামীর গণতান্ত্রিক ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুব সমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি তরুণদের খারাপ সবকিছু পরিহার করে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। তিনি বলেন, একসময় মানুষ পরিবেশ ও প্রতিবেশের প্রতি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল আচরণ করত, ফলে প্রকৃতিও মানুষের প্রতি সহনশীল ছিল। "আজ আমরা প্রকৃতির ক্ষতি করছি বলেই প্রকৃতিও আমাদের ওপর রুষ্ট, বলেন তিনি। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালার শেষ দিনে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি "Resilient Voices: Empowering Community Media Makers to Combat Climate Change in Bangladesh" প্রকল্পের অংশ, যা কালচারাল সারভাইভাল-এর অর্থায়নে জুলাই ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৬ সময়কালে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র, ভিডিও পডকাস্ট ও ভিডিও ব্লগ নির্মাণ করে সেগুলো সামাজিক মাধ্যম ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।
আযোজকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণরা জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব রাখতে সক্ষম হবে।

































