জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই, সুযোগ এলে কমবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বর্তমান দামের চেয়েও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পরে জেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দামের বড় ব্যবধান থাকলে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পাচার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে বলে জানান তিনি।
পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে। অতিরিক্ত ভাড়া যাতে কেউ আদায় করতে না পারে, সেটিও তারা নিশ্চিত করবে।
কৃষিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, কৃষকের সেচের জন্য আগামী দিনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পর্যায়ক্রমে সেচপাম্পগুলোকে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষকের সেচপাম্প পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচও অনেকাংশে কমবে।
ঝিনাইদহের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার উন্নয়নের গতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান জামায়াতের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। তিনি দলটির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণের অভিযোগ তোলেন এবং এর জবাব জনগণ দেবে বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে জামায়াত ও শিবির আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।


































