শিশু ও নারীবান্ধব সংবাদ প্রতিবেদন শীর্ষক কর্মশালা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১২ পিএম
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন এর হল রুমে অনলাইন গণমাধ্যম কর্মী ও সংগঠনসমূহের সাথে শিশু ও নারীবান্ধব সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশে সংবেদনশীলতা শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রিভেনশন অফ চাইল্ড ট্রাফিকিং থ্রু স্ট্রেনদেনিং কম্যুনিটি এন্ড নেটওয়ার্কিং (পিসিটিএসসিএন) কসোর্টিয়াম এর অন্যতম সদস্য কমিউনিটি পার্টিসিপেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) এই কর্মশালার আয়োজন করে।
বাংলা দৈনিক রুপান্তরের সম্পাদক কেএম এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন সিপিডি’র ফোকাল পার্সন আরিফুল ইসলাম, সিপিডি’র পিসিটিএসসিএন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: শরীফুল্লাহ রিয়াজ ও শিশু প্রতিনিধি স্বপ্না।
কর্মশালায় বিভিন্ন অনলাইন ও অন্যান্য মিডিয়াতে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেয়।
আলোচনাকালে বক্তারা সংবেদনশীল প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম কর্মীদের ভুমিকা পালনের আহবান জানান।
নারী ও শিশুরা (ঘরে ও বাইরে) প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরণের সহিংসতার যেমন- পাচারের সম্মুখীন হচ্ছে, যার কারণে তাদের অধিকার লংঘিত হচ্ছে। গণমাধ্যম কর্মীরা যদি এই বিষযে ক্রমাগত ইতিবাচক সংবাদ ও অন্যান্য নিবন্ধ প্রচার করে তাহলে সচেতনাতা তৈরী হবে ও দেশের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভুমিকা নারী ও শিশুদের বিরদ্ধে সকল ধরণের সহিংসতা অবসান ঘটিয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পথ প্রশস্ত করবে বলে তারা মনে করেন।
বক্তারা মনে করেন, গণমাধ্যম যদি শুধুমাত্র দিবস-ভিত্তিক শিশুদের নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন না করে সারা বছর শিশুদের সার্বিক বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে, তাহলে এটা শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
অনলাইন মিডিয়া গুলোতে আলাদা শিশু ডেস্ক এর গুরুত্ব তুলে ধরে তারা বলেন যে, এটা চালু হলে সচেতনাতা তৈরী হবে ও শিশুরা উপকৃত হবে।
তারা প্রতিবেদন তৈরীর ক্ষেত্রে শিশুদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া ও গবেষণার ওপর জোর দেন।
অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে যে কোনো সংবাদ দ্রুততার সাথে পাওয়া যায় বলে এর গুরুত্ব রয়েছে। শিশু সাংবদিকতাকে উৎসাহ দেওয়া ও তার ক্ষেত্র তৈরীর জন্য যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করা হয়।
শিশু পাচার সংক্রান্ত মামলাগুলো আলাদা শিশু আদালতে বিচারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারা বলেন, এই আদালত প্রতিষ্ঠিত হলে শিশু অধিকার রক্ষায় ভুমিতা পালন করবে। বক্তারা এই বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধ আইন ২০১২, শিশু আইন ও জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ এর কথা উল্লেখ করে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, শিশু সুরক্ষা ও কল্যাণে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো কতখানি বাস্তবায়িত হলো সে সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীরা ধারাবাহিক গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন তুলে ধরে শিশু অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভুমিকা পালন করবে।
তারা মনে করেন, আমরা যদি শিশুদের পাশে দাঁড়াই তাহলে শিশুরা আমাদের দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তাই সংশ্লিষ্ট সকলে যাতে এই বিষয়ে এগিয়ে আসে গণমাধ্যম সে ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রচার করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।




















