শেরপুরে ৪ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের নদী পারাপারে একমাত্র মাধ্যম যখন ১টি নৌকা
২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২৪ পিএম
ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।
শেরপুর সদর উপজেলার কামারচরের ৬ নং চর নামক স্থানে দশআনি নদী পারাপারে একমাত্র মাধ্যম যখন ১ টি নৌকা। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলার জামালপুরের ৪ নং চর, ডিগ্রীর চর, আখ্রাবাদ সহ মোট ২০ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুকি নিয়ে পার হচ্ছে নদী।
জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে কামারেরচর ইউনিয়ন ও জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বুক চিড়ে বয়ে গেছে দশআনী নদী। বিগত ২০ বছর আগে একটি কাঠের সেতু থাকলেও সেসময় বন্যায় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে প্রায় ২০ বছর থেকে ৪ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের নদী পারাপারে একমাত্র মাধ্যম মাত্র ১ টি নৌকা। দীর্ঘদিনে একটি সেতু নির্মানের দাবি থাকলেও সম্ভব হয়নি নানা জটিলতায়।
এদিকে চরাঞ্চলের মাটি উর্বর হওয়া এসব গ্রামে সবজি আবাদে বাম্পার ফলন হয়। কিন্তু নৌকা দিয়ে পণ্যসামগ্রী সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় নায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। এছাড়াও দশআনি নদীর ওপার প্রত্যন্ত হওয়ায়। সেসব গ্রামে গড়ে উঠেনি কোন ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে সেসব গ্রামের হাজারো ছেলে-মেয়েদের বাধ্য হয়ে আসতে হয় নদীর এপারে কামারচরে। যেখানে রয়েছে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি ডিগ্রী কলেজ ও একটি আলিয়া মাদ্রাসা। এদিকে নৌকা দিয়ে স্কুল কলেজে আসতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষাথী সহ অভিবাবকদের।
কামারের চর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষাথী আকাশ বলেন, আমরা এই সেতু দিয়ে প্রত্যেক দিন স্কুলে যাই। এ সময় আমাদের বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা হয়। অনেকসময় নদীতে বই খাতা পরে ভিজে যায়। স্কুল ৯ টায় শুরু হয়। ভয়ে একা নৌকা দিয়ে পর হতে পারিনা ফলে স্কুলে পৌছাতে দেড়ি হয়।
কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, নদীর এপারে অনেক কৃষি পন্যের আবাদ হয়। হাজার হাজার মন বেগুন, পাট, গম, ধান নষ্ট হয়। কারন যোগাযোগ ভাল না থাকায় পন্য বাজারে তুলতে পারি না। ফলে আমরা লাভবান হতে পারি না।
৪নং চর হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহ জালাল উদ্দিন জানান, আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত এই ৪নং চর হাই স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করি। নদী পারাপারের জন্য আমাদের নানা ধরনের অসুবিধা হচ্ছে। দেখা যায় আমরা সময়মত স্কুলে যেতে পারি না। নদী পার হওয়ার জন্য বসে থাকতে হয়। এই ৬নং চরের দশআনি নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এই এলাকার যোগাযোগ, ব্যবসা ও শিক্ষাব্যবস্থার আমল পরিবর্তন হবে।
এ বিষয়ে কামারেরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবীব জানান, দশআনি নদীতে একটি সেতু নির্মান মানুষের প্রাণের দাবি। ইতিমধ্যে সরকার দলীয় হুইপ এবং শেরপুর ১ আসনের এমপি আতিউর রহমান আতিক বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছেন। আশা করি দ্রুতই দশআনি নদীতে সেতু নির্মান হবে।
এব্যাপারে এলজিইডি শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দশআনি নদীতে সেতু তৈরির যাবতীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

















