ছাত্রলীগের সংঘর্ষ : সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা
০৪ অক্টোবর ২০১৫, ১১:৪১ পিএম
ষ্টাফ রিপোর্টার :: ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জের ধরে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দুপুর ২টার মধ্যে কলেজের দু'টি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত হল ত্যাগ করে বলে জানা গেছে।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সভাপতি আনিছুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হোসেন শান্ত গ্রুপের মধ্যে আজ রোববার সকালে সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দফা দুগ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এসময় অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে আহত শিক্ষার্থীদের একি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের স্ফুরণ ও দ্য বিটস নামের দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে এই সংঘর্ষের সুত্রপাত। জানা যায় সন্ধ্যার দিকে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. এবিএম মাকসুদুল আলমসহ শিক্ষকরা হাসপাতালের রোববার সকালে দুই সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক এ কোন রকম সমাধানে না এমে উভয় পক্ষ ফের দুগ্রুপের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ায়। কলেজ কর্তৃপক্ষ কোন উপায় না দেখে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোপাল গণেশ বিশ্বাস বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে দুপক্ষকেই কলেজ ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে দেন। একই সঙ্গে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধেরও ঘোষণা দেন অধ্যক্ষ ডা. এবিএম মাকসুদুল আলাম।
তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আনিছুর রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা ছাত্রলীগের মধ্যকার গ্রুপিংয়ের কোনো ঘটনা নয়। ছাত্রলীগ পরিচালিত সাংস্কৃতিক সংঘঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনাকাঙ্খিত এ ঘটনা ঘটেছে।






























