ঢাকায় পাকিস্তান হাই কমিশনের কূটনীতিকের ‘জঙ্গি যোগসাজশ’
১৫ ডিসেম্বর ২০১৫, ০৬:১৭ পিএম
প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: ঢাকায় পাকিস্তান হাই কমিশনের এক কূটনীতিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তৎপর জঙ্গিদের সঙ্গে যোগসাজশের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই তথ্য পায়।
ওই কর্মকর্তার নাম ফারিনা আরশাদ। পাকিস্তান হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) পদে কর্মরত আছেন।
এদিকে একই দেশের বংশোদ্ভূত ইউরোপীয় একটি দেশের দূতাবাসের কনিষ্ঠ এক কূটনীতিকের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজধানীর উত্তরা ও খিলগাঁও এলাকা থেকে ইদ্রিস শেখ নামের এক ব্যক্তিসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, আটকদের মধ্যে ইদ্রিস ও মকবুলের কাছে পাকিস্তানি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে তাদের।
মনিরুল বলেন, ইদ্রিসের সঙ্গে একটি স্পাই মোবাইল পাওয়া যায়। এই মোবাইলে তিনি দেশের বাইরে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদান করতেন।
মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদের কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ইদ্রিস ওই নারী কর্মকর্তাকে পাকিস্তান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ফারিনা আরশাদ হিসেবে চিহ্নিত করেন। পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মনিরুল সেদিন বলেন, ইদ্রিস ১৯৮৫ সালে ভারত হয়ে পাকিস্তান যান। ১৯৯০ সালে পাকিস্তানি এক নারীকে বিয়ে করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন।
পরে ২০০২ সালে সে দেশে ‘পাক-মুসলিম অ্যালায়েন্স’ নামে একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে একাই ফেরত এসে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।
ইদ্রিস জানান, তিনি প্রথমে শাহনাজ বেগম নামে পাকিস্তানের এক স্কুল শিক্ষককে বিয়ে করেছিলেন। পরে দেশে ফিরে ২০০০ সালে বাংলাদেশে তার পাশের গ্রামের মনোয়ারা বেগমকে বিয়ে করেন।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ইদ্রিস শেখকে উত্তরা থেকে আটকের পর তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেন।
ইদ্রিস এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে সরকারি সূত্রের তথ্য। ২০১১ সালের ১ মে ইদ্রিসকে এক শীর্ষ জঙ্গির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সে সময় তার কাছ থেকে ৪৭টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়; বিমানবন্দর থানায় একটি মামলাও হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ইদ্রিসের মোবাইল ফোনে নিজের নম্বর হিসেবে একটি বিদেশি নম্বর সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেই নম্বরটি ক্যাপ্টেন অসীম নামের এক পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার। ওই পাকিস্তানি গোয়েন্দা দেশটির একটি বিমানবন্দরে ছদ্মবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত।
ইদ্রিসের মোবাইল ফোনে অপরপ্রান্তের কথা রেকর্ড করারও সুবিধা রয়েছে বলে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান।





























