বান্দরবানে নৌকার বৈঠা বাইবেন বীর বাহাদুর উশৈসিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৩৭ এএম


বান্দরবানে নৌকার বৈঠা বাইবেন বীর বাহাদুর উশৈসিং

বান্দরবানের নৌকার বৈঠা ধরার এবারও দ্বায়িত্ব পেলেন বর্তমান সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। তিনি বান্দরবান জেলা আসনের অসংখ্য বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

আজ রবিবার (২৬ নভেম্বর) আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০নং সংসদীয় আসন বান্দবান এর আওয়ামী লীগের দলীয় চুড়ান্ত প্রার্থীর মনোনয়ন পেলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিকেল বেলায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বীর বাহাদুর উশৈসিং ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আবার অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মত নিরঙ্কুস বিজয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনেও চতুর্থ ও পঞ্চমবারের মতো নৌকা প্রতিকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বীর বাহাদূর উশৈ সিং। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ষষ্ঠ বারের মতো আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হন তিনি।

গত ১৮ নভেম্বর থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়। ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিনে দলটির দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া জানান, ৩ হাজার ৩৬২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। এতে ক্ষমতাসীন দলটির আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

বান্দরবান জেলা সদরের প্রাইমারি শেষ করে বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ১৯৭৬ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে প্রথমে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে বান্দরবান সরকারি কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে এইচএসসি পাস করেন ।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে গণ্ডি শেষে ১৯৮৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। শুরু করেন স্থানীয় ব্যবসা। তবে, ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে ১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির পূর্বে এ সংক্রান্ত সংলাপ কমিটির অন্যতম সদস্য এবং তৎকালীন সরকারের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও ১৯৯৭ সালে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল কোয়ালিফাই রাউন্ডে অংশগ্রহণের লক্ষে মালয়েশিয়া গমন করেন এবং বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৮ সালে উপমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রথম বারের মতো এবং ২০০৮ সালে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দ্বিতীয় বারের মতো পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙ্গামাটি-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এর ফলে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি তথা ভৌত অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সুযোগ পান।

তিনি ছাত্র জীবন থেকেই খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চায় গভীর মনোযোগী। তার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফুটবল রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দক্ষতার সঙ্গে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মত নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনেও চতুর্থ ও পঞ্চমবারের মতো নৌকা প্রতিকে নির্বাচিত হন বীর বাহাদূর উশৈ সিং। সর্বশেষ ২০১৮ সাল মিলিয়ে ষষ্ঠ বারের মতো আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন তিনি।

বীর বাহাদুর উ শৈ সিং ১৯৯১ সালে মে হ্লা প্র’র সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক।


গত ২৩, ২৪ ও ২৫ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলটির সভাপতি ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বোর্ডের সভায় মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
 

Ads