SSF এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা


SSF এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা


প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করল SSF।  ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি শুভেচ্ছা বক্তব্যে শুরুতেই তাঁকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, SSF অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় একটি ক্ষুদ্র বাহিনী, তবে এর কাজের গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা অনেক বেশি। এই বাহিনী আমার নেতৃত্বে এবং তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। SSF একটি প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল বাহিনী যারা আমার ও রাষ্ট্রপতির সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বিগত ১০ মাসে  SSF দেশে/বিদেশে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেছে। আমি  SSF এর সার্বিক পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতা নিয়ে সন্তুষ্ট। এজন্য আমি  SSF এর সকল সদস্যকে আমার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, SSF বঙ্গভবনসহ আমার বাসস্থান, কার্যালয় এবং সকল ধরনের গমনাগমনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়াও ঢাকার অভ্যন্তরে এবং বাহিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অনুষ্ঠান  সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে  SSF অন্যান্য বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে সফলভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, দেশের বাহিরেও আমার রাষ্ট্রীয় সফরগুলোতে  SSF বিভিন্ন দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রটোকল ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে একযোগে কাজ করে সফরসমূহ সাফল্যমণ্ডিত করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশে আগত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্রপতি ও জাতিসংঘের মহাসচিবের রাষ্ট্রীয় সফরের সামগ্রিক নিরাপত্তা এই বাহিনী অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বর্তমান বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য আদান প্রদান খুব সহজ হবার কারণে নিরাপত্তা হুমকির ধরন ও প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই শতভাগ নিরাপত্তা প্রদান করা খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও  SSF সুষ্ঠুভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। আমি আশা করি,  SSF নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করবে এবং সেগুলো মোকাবেলা করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। সম্প্রতি SSF যমুনার সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করেছে। আমি আশা করি, SSF একই ভাবে এই কার্যালয়েরও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করবে। আমি আরো আশা করি, SSF একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে উন্নত প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি এবং উন্নত মনোবলের সন্নিবেশে দিন দিন আরো উন্নতি সাধন করবে।

নিরাপত্তার খাতিরে SSF কে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা (restriction) আরোপ করতে হয় যা অনেক সময় জনভোগান্তি সৃষ্টি করে থাকে। এ ব্যাপারে আমি SSF কে যতটুকু সম্ভব জনভোগান্তি পরিহার করার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেছি। অতীতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে VIP ফ্লাইট এর জন্য প্রায় ১ ঘণ্টা সকল ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ থাকত। এতে অনেক ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হত। আমি এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছি। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আমি আশাবাদী। আমি মনে করি জনবিচ্ছিন্ন না হয়ে বরং জনসংযোগ ও নিরাপত্তার মেলবন্ধনের মাধ্যমেই SSF তার উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি জেনে আশস্ত হলাম যে, SSF এর প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ বিশেষ করে, গত ৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে এই বাহিনীর কিছু যানবাহন ও সরঞ্জামাদির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যা অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্ষম করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাহিনীর অভিযানিক কার্যক্রম আরো বেগবান ও কার্যকরী করার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্র-সরঞ্জামাদির ব্যবহার এবং দেশে-বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি সদস্যের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। খুব শীঘ্রই SSF তাদের ১২ বছরের পুরাতন VHF Radio Communication System পরিবর্তন করে সর্বশেষ মডেলের UHF Radio Communication System সংযোজন করবে, যা তাদের অভিযানিক কার্যক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। আমি জেনে খুশি হয়েছি যে, SSF এর অত্যাধুনিক Indoor Firing Range এর কাজ প্রায় সমাপ্ত ও আগামী মাস থেকে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এই Firing Range -এর জন্য ভূমি বরাদ্দসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করার জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রিয় SSF সদস্যবৃন্দ, আমি জানি SSFকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা  রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক বাহিনী, PGR ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই আমি আশা করব SSF সকল সহযোগী বাহিনী ও সংস্থার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

SSF কে একটি অত্যাধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনী হতে চৌকস অফিসার নির্বাচন ও প্রেরণ করায় আমি সকল বাহিনী প্রধানদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে SSF কে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আমার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

প্রিয় SSF সদস্যবৃন্দ, রাষ্ট্র ঘোষিত VIP দের নিরাপত্তা প্রদানে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি চারিত্রিক দৃঢ়তা, উন্নত শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিক গুনাবলীর বিষয়সমূহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে, এবং সকল ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যেতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্যের সবশেষে বলেন, আমি SSF এর মহাপরিচালক ও সকল সদস্যদের এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি বিশ্বাস করি, সুযোগ্য নেতৃত্ব, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং এই বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার মাধ্যমে SSF এর উত্তরোত্তর উন্নতি অব্যাহত থাকবে। আপনাদের ও আপনাদের পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য এবং কল্যাণময় জীবন কামনা করে আমার বক্তব্য শেষ করছি। সকলকে অশেষ ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।

 

Ads