দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী: লক্ষ্য সম্পর্কের টেকসই ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘমেয়াদি আস্থা
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
আগামীকাল ৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার তিন দিনের সরকারি সফরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সফরের সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক-
সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। এ ছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও তাঁর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সম্পর্কের নতুন বার্তা-
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ করা। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দিয়েছিল। এবার ঢাকা চাইছে 'অন্তর্বর্তীকালীন মেজাজ' কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করতে।
সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, "আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই। দিল্লি সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।"
আলোচনায় যা গুরুত্ব পেতে পারে-
১. রাজনৈতিক আস্থা: দীর্ঘ মেয়াদে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেবে বাংলাদেশ।
২. অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা: পীযূষ গোয়েল ও হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য সুবিধা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
৩. আঞ্চলিক নিরাপত্তা: অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ইস্যু প্রাধান্য পাবে।
মরিশাস সফর ও ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স-
দিল্লি সফর শেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৯ এপ্রিল মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে ১১ ও ১২ এপ্রিল ভারতের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ যোগ দেবেন তিনি। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সহযোগিতার এই বড় মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশ্লেষকদের মতে, খলিলুর রহমানের এই সফরটি ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক কোন পথে হাঁটবে, তার একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরবে।























